২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বাপ কা বেটা মাহমুদ মাদানী

ফিরে দেখা । আমিনুল ইসলাম কাসেমী

বাপ কা বেটা মাহমুদ মাদানী

ভারতের জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী, আওলাদে রাসুল, সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী দামাত বারাকাতুহুম যেন একদম বাপ দাদার প্রতিচ্ছবি। কখায় বলে, “বাপ কা বেটা সিপাহী কা ঘোড়া, কুঁচ না হো তো থোড়া থোড়া”। যেমন ছিলেন তাঁর পিতা ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ. যিনি উম্মতের কল্যাণের জন্য নিজেকে ফেদা করেছিলেন, উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। দেশ জাতি ও বিশ্বের খেদমতে কেটেছিল তাঁর পুরো যিন্দেগী।

এমনিভাবে মাহমুদ মাদানী সাহেবের দাদা তো একটি ইতিহাস। সংগ্রামী – মুক্তিকামী মানুষের নেতা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার। ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। যার সংগ্রাম, যার তেজদীপ্ত নেতৃত্বে এই উপমহাদেশে স্বাধীনতার হাওয়া চালু হয়েছিল। মুক্তির জয়গান গেয়েছিল এদেশের আপামর জনতা।

মোটকথা, যেমন পিতা, তেমন দাদা, আর মাহমুদ মাদানী হলেন ঠিক তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরী। ভারতের মুসলিম মিল্লাতের যে কোন সমস্যা সমাধানে বুক চিতিয়ে দেন তিনি। শুধু মুসলিম কেন? যে কোন মাজলুম নিপীড়িত মানুষের পাশে তিনি। কোন ভেদাভেদ নেই। তাঁর সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ব্যানারে সারাটা বছর এলার্ট থাকেন। যখনি কোন সমস্যা, কোথাও কোন ধরনের কোন মানুষ, কোন জাতি বা গোষ্ঠী সমস্যা ফিল করলে এগিয়ে যায় জমিয়তে উলামা হিন্দ। এবং নিজেও উপস্থিত হন মাহমুদ মাদানী।

আমরা ভালভাবে জানি, নিজামুদ্দীন তবলীগ মারকাজের ঘটনা নিয়ে কি যে তুলকালাম কাণ্ড হয়ে গেল। এক শ্রেণীর মুসলিম বিদ্বেষী মিডিয়া নিজামুদ্দীন এর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। ওরা মুসলিমদের দায়ী করে, তাদের উপর জুলুম অত্যাচার চালানোর ফন্দি এঁটেছিল। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানী। আমাদের দেওবন্দের ওলামায়ে কেরাম, বিশেষ করে মাহমুদ মাদানী এবং তাঁর সংগঠন যে ভূমিকা রেখেছেন, তা চিরকাল স্মরণ রাখতে হবে সকলের। বিশেষ করে তবলীগের সাথীরা ভুলবে না কোন দিন মাহমুদ মাদানী এবং জমিয়তের অবদানকে।

প্রায় আড়াই হাজার তাবলীগের সাথী যারা দিল্লি এবং আশে পাশের বিভিন্ন জায়গায় আটকে ছিলেন। তাদেরকে ঘরে ফিরতে সরকারের কাছ থেকে পারমিশন এবং যাতায়াতের সকল যিম্মাদারী নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পৌছাতে সাহায্য করেছে। যেটা এক নজীর বিহীন ঘটনা। যাদের থেকে সরকার এবং সকল মিডিয়া মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেখানে তাদের বন্ধু হলেন জমিয়ত ও মাহমুদ মাদানী।

সর্বশেষ গত ১৭ মে দিল্লিতে মাহমুদ মাদানী ও তাঁর সংগঠন যে এক মানবিক কাজ দেখালেন, সত্যি তার প্রশংসা না করে পারছি না। ৬৪৪ জন তামিল নাড়ুর তাবলীগের সাথী। যারা দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তাদেরকে পাঠানোর জন্য ট্রেন এক ঘণ্টা দেরী করালেন। কেননা, কোয়ারেন্টাইন থেকে আসতে অনেকের দেরী হচ্ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ট্রেন থামিয়ে তাবলীগের সাথীদের যাওয়ার সুযোগ করে দিলেন।

আরো অবাক হবেন, এই যে এত লোকের সেহেরী আর ইফতারের খাবার ব্যবস্থা করেছেন ফেদায়ে মিল্লাত তনয় সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী ও তার সংগঠন জমিয়ত। তার কর্ম দেখেই বোঝা যায় তাঁর বাবাকে কেন বিশ্ব ফেদায়ে মিল্লাত বলতো।

দিল্লির স্টেশনে খাবার পৌছে দিয়েছে জমিয়তের কর্মীরা। সেখানে জমিয়তের কর্মীদের প্রাণপণ খেদমতের দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। মাহমুদ মাদানীর এই খেদমতে খোদ মাওলানা সাআদ কান্ধলবী সাহেব এবং তবলীগের সাথীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অনেকে মাহমুদ মাদানীর অবদানে আবেগা- আপ্লুত হয়েছেন।

পুরনো দিল্লি স্টেশনে যেন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। এক অসহায় পুর্ণ অবস্থা। নিজামুদ্দীনের ঘটনায় এমনিতে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছিল সবার। বাঁকা দৃষ্টি প্রশাসন আর মিডিয়াগুলোর। সেই অবস্থায় পরম বন্ধু হলেন মাহমুদ মাদানী এবং তাঁর সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

এজন্য আসলেই মাহমুদ মাদানী বাপ কা বেটা । একদম যোগ্য উত্তরসূরী বাপ- দাদার। তাদের বাতলানো পথেই চলছেন তিনি। মানবতার কল্যাণে নিবেদিত যিনি। কোন স্বার্থ -সিদ্ধি হাসিলের জন্য নয়। লিল্লাহিয়্যাত। আল্লাহর সন্তুষ্টি আর ভালবাসার নিমিত্তে এগিয়ে চলেছেন। আমি হযরত মাহমুদ মাদানীর নেক হায়াত কামনা করি। আল্লাহ তাঁর খেদমতের পরিধি আরো বৃদ্ধি করুন। আমিন।

লেখক : দারুল উলূম দেওবন্দের ফাযেল

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com