১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

বাবরি মসজিদ রায় বাতিল না হলে লংমার্চ করবে ইসলামী আন্দোলন

বাবরি মসজিদ রায় বাতিল না হলে লংমার্চ করবে ইসলামী আন্দোলন

পাথেয় রিপোর্ট : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ভারতের সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের রায় বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায়। এএসআই-এর! ভুলেভরা একপেশে রিপোর্টের ভিত্তিতে ৪৬০ বছরের পুরানা মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। অবিলম্বে এ রায় বাতিল করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা বাবরি মসজিদ অভিমুখে লংমার্চ করতে বাধ্য হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মাওলানা এবি এম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম নাঈম, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, এইচএম সাইফুল ইসলাম, ফজলুল হক মৃধা প্রমুখ।

মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, এর পূর্বে সুপ্রিমকোর্ট বলেছিলো, মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ তৈরির কোন প্রমাণ নেই। অথচ তারাই মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের রায় দিচ্ছে। তারা একদিকে বলছে বিশ্বাসের ভিত্তিতে জমির মালিকানা নির্ধারণ করা যায় না। অন্যদিকে হিন্দুদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাম মন্দির নির্মাণের কথা বলছে। এ রায় স্ববিরোধী। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বাবরি মসজিদকে বৈধভাবেই মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং হিন্দুরা দেয়ালের বাহিরে পুঁজা করতো। অতএব এখানে মসজিদ নিশ্চিত আর মন্দির থাকাটা অনিশ্চিত। আর রায়ে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর অনিশ্চিতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে শুধু বিশ্বাসের ভিত্তিতে। এ রায় উগ্র হিন্দুত্ববাদকেই উৎসাহিত করবে। দুঃখজনকভাবে সুপ্রিম কোর্ট জমির মালিকানা নিয়ে রায় দিলেও মসজিদ ভাঙ্গার ফৌজদারী মামলা এখনও ঝুলে আছে। বরং যারা মসজিদ ভাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের হাতেই মসজিদ তুলে দেওয়া হলো।

মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, বাবরি মসজিদকে সরকার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। বাবরি মসজিদ মুসলমানদের ঈমানী ইস্যু। ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ইস্যূ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ওআইসিসহ মুসলিম বিশ্ব এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ভারতের সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতার অগ্রগতিতে ইসলাম অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে। ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস গৌরবময় ও সমৃদ্ধ। অথচ ‘একভারত’ প্রতিষ্ঠার নামে বিজেপি জাতিগতভাবে মুসলিম নিধনের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তারাএখন অভিন্ন দেওয়ানি আইনের নামে ইসলামী সংস্কৃতির শেষ চিহ্নটুকু মুছে দিতে চায়।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, বাবরি মসজিদের পর বিজেপির এবার টার্গেট কয়েক হাজার মসজিদ। তারা ভারত রাষ্ট্রকেই মুসলমানদের বিপক্ষে দাঁড় করাচ্ছে। এতে শুধু অস্থিরতারই জন্ম দিবে। তবে ভারতীয় মুসলমানরা একা নয়। তারা মুসলিম উম্মাহর অংশ। এবিষয়টাও ভারতের বিবেচনায় থাকা উচিত। বাবরি মসজিদের স্থলে মুসলমানরা মন্দির হতে দেবে না, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সমাবেশে বি-বাড়িয়ায় রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আহতদের দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসা এবং দূর্ঘনার কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানানো হয়। সমাবেশ শেষে এক বিশাল মিছিল বের করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com