৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

বাসচালকেরা রাস্তায় মুরগিও মারতে চায় না

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ●  বুধবার। ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। মহাখালী বাস টার্মিনাল ছাড়িয়ে বাস এসে দাঁড়িয়েছে রাস্তার ওপর। সব কাউন্টার বন্ধ। পুলিশ চেস্টগার্ড পরে দাঁড়ানো। যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। আদালতে আপিল না করে যাত্রীদের জিম্মি করছেন কেন, এমন প্রশ্নে টার্মিনালের বাসমালিকেরা ‘সুশীল’দের ওপর ঝাল ঝাড়লেন। বললেন, ‘সুশীল’রা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে তাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে। তাঁদের দাবি, বাসচালকেরা রাস্তায় একটা মুরগিও মারতে চায় না। গরু, ছাগল, মুরগি বাঁচাতে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বৃহত্তর ময়মনসিংহের সব কটি জেলা, উত্তরবঙ্গ, সিলেট ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রতিদিন ৭০০ বাস ছেড়ে যায়। এসব বাসে যাতায়াত করেন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এখানে আগে থেকে টিকিট কাটার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরা টার্মিনালে এসে টিকিট কাটেন। যাত্রীছাউনিতে বসে গাড়ি ছাড়ার অপেক্ষা করেন। ধর্মঘটের খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে মহাখালীতে যাত্রী তেমন চোখে পড়েনি। যাত্রীছাউনি ছিল কাউন্টারের কর্মী, গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দখলে। যাত্রীছাউনির ওপরতলায় মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসে ছিলেন মালিকেরা। সবারই চোখ ছিল টেলিভিশনের খবরের দিকে।

মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে নিজের পরিচয় দিতেই একজন বাসমালিক বললেন, ‘যারা অতি সুশীল, তাদের জন্য এই অবস্থা! তারাই বাসমালিক-চালক আর যাত্রীদের ভিন্ন করে দিচ্ছে। ফাঁসি/ যাবজ্জীবনের ভয় থাকলে কে রাস্তায় নামবে? বাসচালকের দোষ কী?’ তাঁর অভিযোগ, ‘সুশীল’দের জন্য তাঁদের ওপর দোষ চাপে। অথচ তাঁরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। কোথাও কোনো গন্ডগোল হলেই লোকে গাড়ি ভাঙে, আগুন দেয়। তাঁর মতে, একমাত্র ‘স্বামী-স্ত্রী’র বিবাদ ছাড়া সব ঝগড়া-বিবাদের ঝাল মানুষ বাসের ওপর ঝাড়ে।

তাহলে বাসচালকেরা ইচ্ছেমতো গাড়ি চালাবেন, মানুষ চাপা দিয়ে মারবেন এবং তাঁদের বিচার করা যাবে না? এমন প্রশ্নে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘গাড়িচালকেরা একটা মুরগিও মারতে চায় না। আদালত যাবজ্জীবনের যে রায় দিছে, সেটা পূর্বপরিকল্পিত। প্ল্যানমাফিক দেওয়া হইছে। নইলে এমন রায় হইত না।’

সাধারণ সম্পাদকের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আরেক মালিক তাঁকে চুপ করে থাকতে বলেন। সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এই সাংবাদিকেরাই আবার লিখবে বাসমালিকেরা আদালত অবমাননা করে।’ বাসমালিকদের যুক্তি হলো, বিচার হলে সড়ক নির্মাণে যাঁরা যুক্ত, তাঁদেরও বিচার করতে হবে। সেই সঙ্গে আরও যেসব কর্তৃপক্ষ আছে, তাদেরও বিচার হতে হবে।

patheo24/mr

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com