১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিচারকদের চাকরি বিধির গেজেট খসড়া চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক  ● অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে জমা পড়েছে, যা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চূড়ান্ত খসড়াটি হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বিকালে নিজে গিয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার চূড়ান্ত খসড়া হস্তান্তর করে এসেছেন। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বলেন, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আইনমন্ত্রী মহোদয় এসেছিলেন। আমি নিজে উনাকে রিসিভ করেছি। এরপর তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ৪০ মিনিটের মতো তিনি ছিলেন। আইনমন্ত্রী কী বিষয়ে সাক্ষাতে এসেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতটুকু শুনেছি অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেছেন মন্ত্রী মহোদয়। গত ২৩ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের দুই সপ্তাহের আবেদনে গেজেট প্রকাশে সরকারকে আবারও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তার আগে গত ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গেজেট আকারে প্রকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে সরকার। আগামী সপ্তাহেই (গত সপ্তাহে) তা হতে পারে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গত রোববারও সময়ের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে। রাষ্ট্রপক্ষকে এক সপ্তাহ সময়ও দেয়া হয়। শুধু গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারের পক্ষে এ পর্যন্ত ২২ বার সময় নেয় সরকার। গত ২ জুলাই সরকারকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছিল, এটাই শেষ সুযোগ। যদিও আপিল বিভাগ এর আগে কয়েকবার শেষ সুযোগ উল্লেখ করে সময় দেয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ দফায় দফায় সময় নিয়েছিল।

ঘটনাক্রম : মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় দেয়া হলেও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com