২৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ১৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২রা জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

‘বিজেপি-আরএসএসকে মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে হিন্দ জমিয়ত’

‘বিজেপি-আরএসএসকে মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে হিন্দ জমিয়ত’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের জমিয়তে উলামা হিন্দ ভারতীয় জনতা পার্টি ও আরএসএসকে মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন গণগ্রন্থাগার মন্ত্রী ও পশ্চিম বাংলা জমিয়ত সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে কোনো আন্দোলন করতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

উত্তর ২৪ পরগণার বাদুড়িয়ায় ভয়াবহ অশান্তির বিষয়ে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর আগে উত্তর ২৪ পরগণার বাদুড়িয়ায় ভয়াবহ অশান্তি হয়েছিল। সেই ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন তা নিয়ে নতুন আর বলার কিছু নেই। তবে এটা মানতে হবে সেদিন যারা বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছিলেন সেইসব মুসলিম নেতারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। যেভাবে পুলিশের গাড়িতে সেদিন ভাঙচুর হয়েছিল তা না করলে হয়তো অশান্তি এড়ানো যেত , বিজেপি-আর এসএসের এত বাড়বাড়ন্ত হত না। একই ঘটনা দেখে গেল ক্যাব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে মুসলিমদের গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর , অগ্নিসংযোগ , সেখানে মুসলিম নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বিক্ষোভকারীদের।

প্রসঙ্গত, অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ডাকে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল ক্যাবের বিরুদ্ধে। একথা অস্বীকার উপায় নেই আমাদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন জেলা থেকে জমিয়তের বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর পাঠিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তাদের সব কর্মসূচিই ছিল শৃঙ্খলা-পরায়ণ।

শুক্রবার ক্যাব বিরোধিতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দিয়েছিল বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন। এদের মধ্যে ছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ , এসআইও , পিএফআই , এসডিপিআই সহ একাধিক মুসলিম সংগঠন।

এনআরসি বিশ্লেষকগণ বলছেন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গতকালের কর্মসূচি এত সুন্দরভাবে হয়েছে যার প্রশংসা করতেই হবে। বিশেষ করে অন্য মুসলিম নেতাদের উচিত সিদ্দিকুল্লাহ-র বাস্তবমুখী নেতৃত্বকে অনুসরণ করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দু-মুসলিম বুদ্ধিজীবী এক সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

আর এটাকে ভালভাবে পরিচালনা করতে পারবেন একমাত্র মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি। তাই এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সব মুসলিম সংগঠনের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামা। আর সেই আন্দোলনের প্লাটফর্ম হিসাবে রাজ্য জমিয়তকে বেছে নিলে ভাল হবে বলে আমার অভিমত। কারণ ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামে জমিয়েতের যে অবদান তা আরএসএসের নেই। তাই আরএসএসের কথিত দেশভক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ হিসাবে জমিয়তকে দাঁড় করিয়ে দিলে দেশের মানুষের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে বিরাজ করবে। অনেকের কাছে সিদ্দিকুল্লাহ গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারেন, তবে জমিয়তকে তো অস্বীকার করতে পারবেন না। তাই ক্যাব নিয়ে হোক কিংবা বিজেপির জনবিরোধী নীতি নিয়ে হোক মুসলিমদের আন্দোলন করতে হলে একটি প্লাটফর্মে আন্দোলন করা জরুরি। বিচ্ছিন্নভাবে না করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করলে তবে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।

ইতিমধ্যে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এবিষয়ে কলকাতায় ও বড় মাপের সমাবেশ করার পরিকল্পনা রাজ‍্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ করছে বলে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে রাজ্য জমিয়ত কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা কারী সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ উসমান মানসুরপুরী ও জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী হতাশা ব‌্যক্ত করে বলেছেন, লোকসভায় সংখ্যার নিরিখে পাস হওয়া এ বিল ভারতীয় সাংবিধানিক চেতনাবিরোধী।

তারা বলেন, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর সংশোধন অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের মূল বিধান ১৪-১৫-এর সাথে পাস হওয়া এই আইনটি সাংঘর্ষিক। আইনের দৃষ্টিতে যেটা একাধারে বর্ণ, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে বৈষম্যের অনুমতি দেয় না।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারি এই সংশোধনীকে ভারতীয় আইনবিরোধী উল্লেখ করে আশা ব্যক্ত করে বলেন, রাজ্যসভায় তা তেমন সমর্থন পাবে না, এবং কোন ফলাফল বয়ে আনবে না।

যারা ভারতের আইন ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে তাদের উদ্দেশ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনার পূর্ণ শক্তি দিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে ভারতের পার্লামেন্ট লোকসভায় দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কপি ছিঁড়তে ছিঁড়তে মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, আমি এই বিলের কপি ছিঁড়ে দিচ্ছি। কারণ, এটি হিন্দুস্তানের সংবিধানকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

ছিঁড়ার সময় তিনি হিন্দুস্তানের জাতির পিতা মাহাত্মা গান্ধীও এমন একটি বিল ছিঁড়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন।

ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম পর্বে সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) পাস হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। দুপুরে বিলটি আলোচনার জন্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় পাস হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com