৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

বিদেশে কর্মসংস্থান প্রতারণা বন্ধ হলেই কাক্সিক্ষত সুফল পাবে দেশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কাক্সিক্ষত সুফল পেতে দেশের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরই ভূমিকা পালন করতে হবে। বিদেশে গ্রামীণ সাধারণ শ্রমিকদের পাঠানো নিয়ে এ যাবৎ যে ভয়াবহ প্রতারণা হয়েছে তা অবিশ্বাস্য। কত মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি বিক্রি করে ফতুর হয়েছেন। আবার কেউ কেউ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেও পেরেছে। পর্যাপ্ত রেমিট্যান্সের উপর ভিত্তি করেই দেশ একটি শক্ত অর্থনীতির উপর দন্ডয়মান। সুতরাং আমরা সর্বোত আশাবাদী, প্রতারণা বন্ধ করে কাক্সিক্ষত সাফল্যের সিঁড়িতে দেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এনে দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির এই দেশের ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বিদেশের শ্রমবাজার। দুই কারণে যারা জীবিকা অর্জনের জন্য বিদেশে যান তাদের প্রতি প্রশাসনের বাড়তি নজর খুবই প্রত্যাশিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলে পরিচিত যে রেমিট্যান্স, তার কুশীলবরা প্রতিটি ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। এ উপেক্ষার অবসানে প্রশাসন-সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি, ২০১৩-এর আলোকে গঠিত অভিবাসন সম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। যারা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তারা যেন অকালে হারিয়ে না যান সেজন্য তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিকে নজর দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। যারা কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন তাদের জীবনবৃত্তান্তসহযোগে একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে তারা কোন কাজের জন্য কোন দেশে যাচ্ছেন তার বিবরণ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে একশ্রেণির দালাল ও প্রতারক রয়েছে যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশে লোক পাঠায়। আর বিদেশ গমনেচ্ছুরা দিনবদলের আশায় তাদের সর্বস্ব বিক্রি করে, ঋণ করে তাদের টাকার জোগান দেন। এমনও দেখা গেছে, এদের বিদেশে নিয়ে দালাল চক্র দেশে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করে। কাজেই বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে নজরদারিতে আনতে হবে। সারা দেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশ গমনেচ্ছুরা এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ গমনেচ্ছুদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচানোর যে তাগিদ দিয়েছেন তা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে কর্তব্য হিসেবে নিতে হবে। দেশের এবং জনগণের প্রতি দায়বোধ থেকেই প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে যত্নবান হতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com