৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

বিনামূল্যে করোনার টিকা নিশ্চিত করতে হবে

নিরাপদ হোক ভ্রমণ

বিনামূল্যে করোনার টিকা নিশ্চিত করতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনার সংক্রমণ যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে। একটা ধামাকা গেছে। আবারও হয়তো অপেক্ষায় আমরা। আর চাই না এমন লকডাউন অবস্থা। করোনাভাইরাসের টিকা প্রায় নাগালে চলে এসেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসেই একাধিক টিকা বাজারে আসবে। একেক ডোজ টিকার দাম পড়বে পাঁচ থেকে ছয় ডলার। জনপ্রতি দুই ডোজ করে টিকা লাগবে। সে হিসাবে ১৫-১৬ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে টিকা লাগবে ৩০-৩২ কোটি ডোজ। খরচ হবে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। সেসব টিকা আবার দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বল্পোন্নত, এমনকি উন্নয়নশীল অনেক দেশের পক্ষে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। আবার সেসব দেশ যদি করোনামুক্ত না হয়, তাহলে বিশ্বকে করোনামুক্ত করার স্বপ্নও সফল হবে না। সংগত কারণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে বিনা মূল্যে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন পেতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ধনী দেশ, বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএফআই) এগিয়ে আসতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত আসেম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থমন্ত্রীদের ১৪তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব এক চরম দুঃসময় অতিক্রম করছে। আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি, মৃতের সংখ্যাও ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে টিকার আগমন। একাধিক টিকাই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু টিকাই করোনা থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে আরো অনেক বেশি সচেতনতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা সেই সচেতনতা থেকে এখনো অনেক দূরে। এ কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার একটি হলো, বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে কড়াকড়ি আরোপ। বিদেশফেরত যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার সনদ দেখানো এবং কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন নিশ্চিত করার ব্যাপারে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার সনদ নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিদেশফেরত কয়েকজন যাত্রী করোনা পজিটিভ হওয়ায় তাঁদের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে বিদেশগামী একজন যাত্রীর কাছে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ পাওয়ায় তাঁকেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অনেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি আমলে নেয় না। সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফা সংক্রমণের একটি প্রধান কারণ ছিল বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণও যাতে একইভাবে না হয়, তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। b

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com