৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

বিশদলীয় জোট নেতাদের কাঁধেই হাইয়ার দায়িত্ব

বিশদলীয় জোট নেতাদের কাঁধেই হাইয়ার দায়িত্ব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার মুহতামিম এবং গুলশানের আজাদ মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান ছাড়া বেশির ভাগ দায়িত্বশীলই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার নির্বাচনে সভাপতি পদে হেরে সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। ভোটে জিতেই বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিবের দায়িত্বও পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।

রাজনীতির দোলাচলে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদি দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি রাজনীতি করছেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। এদিকে মুফতি মাহফজুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদি দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলো। মজলিস ভেঙে যাওয়ার পর মাহফুজুল হকের অংশ কোনো কূলে ঠাঁই না পেয়ে গেল নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো আসন ছাড়াই একাত্ম হয়ে নির্বাচন করে।
সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার গুরু দায়িত্বে থাকবেন তিনিও।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ছাড়া এবারের বেফাক নির্বাচনে অরাজনৈতিক নেতারা উপেক্ষিত হয়েছেন। বরাবরই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা রাজ করেন বেফাকে। সে সূত্র ধরেই আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ায়ও তারাই কর্তৃত্ব চালান। এবারের বেফাক নির্বাচনে রাজনীতির বাইরে থেকে মাওলানা মাহমুদুল হাসান জয়ী হওয়ায় অনেকেই আশা করছেন, এবার হয়তো রাজনীতিমুক্ত হবে বেফাক ও হাইয়া।
প্রসঙ্গত, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। মহাসচিব পদে এসেছেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

সভাপতি পদে মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৫০ ভোট। মহাসচিব পদে মাহফুজুল হক পেয়েছেন ৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মুসলেহুদ্দীন পেয়েছেন ৪০ ভোট।

বেফাকের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের (মজলিসে আমেলা) সভায় গোপন ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হন। শনিবার রাজধানীর কাজলার ভাঙা প্রেস এলাকায় বেফাকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। অবশ্য এটাকে ভোটাভুটি বলতে রাজি নন কওমি আলেমরা। তাঁরা বলছেন, এটা সদস্যদের লিখিত মতামত।

বেফাকের নতুন সভাপতি মাহমুদুল হাসান রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার মুহতামিম এবং গুলশানের আজাদ মসজিদের খতিব। আর মহাসচিব মাহফুজুল হক প্রয়াত শায়খুল হাদিস আজিজুল হকের ছেলে। তিনি মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান)। তিনি এর আগে বেফাকের সহকারী মহাসচিব ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে বেফাক ও কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার সভাপতি পদটি শূন্য হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যিনি বেফাকের সভাপতি হবেন, তিনিই হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com