মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

বিশ্বাসের তাসের ঘর । হুসাইন আহমদ বাহুবলী

বিশ্বাসের তাসের ঘর । হুসাইন আহমদ বাহুবলী

মাওলানা মাহমুদ মাদানী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা জুলফিকার নকশবন্দী, আপনাদের জীবনের সব অর্জন নাকি তলিয়ে গেছে ইমরান খানের একটা বক্তব্যের কাছে?

মুসলমানদের কল্যাণ চিন্তায় আপনাদের চাইতে ইমরান খান নাকি এগিয়ে! জীবনটা আপনারা কোন সাধনায় পার করলেন?

আমাদের তরুণ আলেমদের মাঝে লেখকদের মাঝে, কবিদের মাঝে, যে ইখলাস-নিষ্ঠা আছে, ওটা নাকি আপনাদের মধ্যে নেই!

তাই নাকি আপনারা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছেন? রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন?

বক্তা ও লেখক যাচাইয়ে মুসলিম শরীফের মুকাদ্দিমায় আমাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে,

ان هذا العلم دين فانظروا عمن تاخذون دينكم
“এই ধর্মীয় বিষয়াবলী তোমরা কার কাছ থেকে গ্রহণ করছ, একটু যাচাই করবে”

ব্যক্তি যাচাইয়ের বিষয়টা ইসলামে এত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ হয়েছে যে স্বতন্ত্র একটি শাস্ত্র তৈরি হয়েছে যার নাম “আসমাউর রিজাল”
এই শাস্ত্রের মাধ্যমে বহু চটকদার বাণী আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। গলাধঃকরণ থেকে পরিত্রান পেয়েছি বহু টক-ঝাল-মিষ্টি বক্তব্য।

সনদের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ইমাম শাফেঈ রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকরহ. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. ইবনে সীরীনরহ. এর বক্তব্য প্রমাণ করে,

কারো বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতার আগে তার লাইফ স্টাইলের গ্রহণযোগ্যতা জরুরী। যার লাইফ স্টাইল গ্রহণযোগ্য নয়, তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। লেখার কলেবর বেড়ে যাওয়ার ভয়ে কমেন্টে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবো।

এই বিশ্বস্ততার কারণেই পীরের কোন আদেশ মুরিদের বুঝে না আসলেও বিনা বাক্যে মেনে নিতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠাবেন আমরাতো উনাদের মুরিদ নই? আমরা কেন প্রশ্ন করতে পারবো না?

আমি পাল্টা প্রশ্ন করবো, ভাষা দিবসে বা কবি নজরুলের জন্ম-মৃত্যু দিবসে সেই আপনারাই লিখেন উদারতার বাণী।

আপনারা বলেন, “কবি নজরুলকে উপস্থাপন করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের গায়ে কালিমা লেপন পছন্দ করি না”

“নজরুলকে মূল্যায়ন করুন জাতীয় কবি হিসেবে আর রবীন্দ্রনাথকেও অবজ্ঞা করবেন না কারণ তিনি বিশ্বকবি”

বিশেষ করে যখন আমাদের সামনে নিকট অতীতের একটা তিক্ত উদাহরণ উপস্থিত,

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাক্কালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কোরআনী আইন, ইসলামী শাসনের চমকপ্রদ বক্তব্যকে শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখতে পারেননি, একমাত্র তার বক্তব্য থেকে তাঁর লাইফস্টাইল ভিন্ন হওয়ার কারণে।

তখনও জিন্নাহর বক্তব্যে আপ্লুত হয়ে শত-সহস্ত্র আলেম নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চরণে।

জিন্নাহ যখন খোলস উন্মোচন করলেন আর বললেন,
بھائیو یہ سیاسی وعدہ تھا
তাঁরা সকলেই আফসোসের সুরে বলে উঠলেন হায়! আমরা জিন্নাহর শুধু বক্তব্যই দেখলাম, তার লাইফস্টাইল দেখলাম না!

আজ আমি কি এ কথা বলতে পারি? যে, ইমরান খানের সাহসী বক্তব্যের মূল্যায়ন করুন। কারণ তিনি দারুণ ইংরেজী উচ্চারণের সাথে বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সমন্বয় ঘটিয়ে চমকে দিয়েছেন গোটা বৈঠকটাকে।

আর উপরোক্ত বুজুর্গদের অবজ্ঞা করবেন না। কারণ তাঁরা জীবন সাধনায়, উম্মাহর কল্যাণ চিন্তায় বিশ্বস্ততার ভুরি ভুরি প্রমাণ দিয়েছেন।

আমাদের তরুণ আলেমদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের বিশ্বাসের ঘরটা তাসের ঘরের মতো ঠুনকো হয়। একটা শিশুর ফুৎকারে যা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

মনে রাখবেন, এইটুকু বিশ্বাস দিয়ে আপনি বিশ্বসভা মাতাবেন দূরের কথা পরিবার ঠেকানো হবে ভীষণ দায়।

আরো বড় সমস্যা হচ্ছে, বড় কারো সমালোচনায় ছোট কেউ যখন কথা বলে, অবিবেচক তরুণ সমাজ এই ছোটকে বড়র সমতুল্য মনে করতে থাকে।
একটা লজিক তাদের মানসপটে ভেসে উঠে,

“বড় মুখে শুনি ছোট কথা,

তাই ছোট মুখে বলি বড় কথা”

আমারও স্মৃতিতে ভেসে ওঠে একটা পংক্তি,

خطائے بزرگاں گرفتن خطا است
তাই নিবেদন করবো একটু সবুর করুন। আপনিও জীবন সাধনা করে বড় হবেন। পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন শিখবেন।

আপনার সঞ্চয়ে যেদিন দেখবেন মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণে উপরোক্ত বুজুর্গদের অবদানের সমপরিমাণ অবদান রাখতে আপনি সক্ষম হয়েছেন, সেদিন হৃদয় উজার করে সমালোচনা করবেন।

তখন হয়তো এরকম সমালোচনার প্রয়োজন মনে করবেন না। যেমনটা আজ মনে করছেন না আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিজাহুল্লাহ, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহর মত বড়রা।

লেখক : শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com