২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং , ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

বিশ্বের সবখানেই ছড়িয়ে পড়ুক শান্তি সমিরণ

যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি

বিশ্বের সবখানেই ছড়িয়ে পড়ুক শান্তি সমিরণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের রক্তবন্যার অবসান ঘটিয়ে আমেরিকা ও আফগানিস্তানের তালেবানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিশ্ববাসীর জন্যই বড় একটি শান্তির বার্তা। আলোর পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্র্রে এটি বড়ধরনের উদ্যাে হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্বনেতারা। আশা করা হচ্ছে, এ চুক্তির বদৌলতে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ এশীয় এ দেশটিতে যে গৃহযুদ্ধ চলছিল তার অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তালেবান নেতাদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়। এখন থেকে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে তালেবান। দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী, তালেবান যোদ্ধারা শর্ত মেনে চললে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্ররা। চুক্তির ফলশ্রুতিতে এখন থেকে আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আল-কায়েদাকে কোনো তৎপরতা চালাতে না দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে তারা।

১৮ বছরের এ যুদ্ধে কী পরিমাণ আফগান বেসামরিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও তালেবান সদস্যের প্রাণ গেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করা কঠিন। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়- যুদ্ধে ৩২ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, আফগান যুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ হাজার এবং বিরোধী পক্ষের ৪২ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানে অভিযানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক যৌথ বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই হাজার ৪০০-এর বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য। বর্তমানে ১২ হাজারের মতো বিদেশি সৈন্য এখনো আফগানিস্তানে অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধের সমাপ্তি টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে সোভিয়েত সমর্থিত সরকারের পতন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা তখন সহযোগিতা করে আফগান যোদ্ধাদের। এরপরই জন্ম নেয় তালেবান এবং পরবর্তী সময়ে আল কায়েদা নেটওয়ার্কের নামও আসে আলোচনায়। আসে সৌদি আরবের ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য বিন লাদেনের নাম। তারা সোভিয়েত সমর্থিত সরকারের পতন ঘটাতে সামর্থ্য হয়।

এর মধ্য দিয়ে কিছু জঙ্গিগোষ্ঠীও তৈরী হয়। জঙ্গিবাদের এ উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সর্বনাশ ডেকে আনে। এখনো মনে করা হয় ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংসে তালেবানের হাত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের চুক্তির বদৌলতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তা হবে ডোনাল্ট ট্রাম্পের জন্য বিরাট সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে ট্রাম্প অনেক দূর এগিয়ে যাবেন বলেও বিশ্লেষকরা বলছেন।

আমরা মনে করি, কেবল আফগানিস্তান নয়, সমগ্র বিশ্বেই ইসলামকে যারা কলুষিত করছে তাদেরকে চিহ্নিত করা যেমন জরুরি তেমনি সন্ত্রাসবাদের মূল নায়কদের খোঁজে বের করা উচিত। তাহলেই বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা অবদান রাখতে পারবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com