বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩০ অপরাহ্ন

বিশ্ব সংগীত দিবস আজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে গান ও মিউজিকের গভীর সম্পর্ক আছে। এগুলো মানুষের মস্তিষ্ককে গভীরভাবে আন্দোলিত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, গান অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। গানের সময়ে অতীতের ইভেন্টগুলো মনে পড়ে যায় কিংবা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অনেক সময়ে স্ট্রেস রিলিভ করতেও মিউজিক দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই কারণে সবাই কোন না কোন মিউজিক বা গান পছন্দ করেনই। তাই মানুষ গান শোনে।

আবার ধার্মিকতার বিচারে হামদ, নাত, গজল, ভজন ইত্যাদি শুনতে থাকেন। মোটকথা, ‘সুর মানব মনের বা মনোজগতের একটি অংশ। এটি মানুষের অন্তরে প্রশান্তি দেয়। তাই আমাদের উচিৎ ইসলামিক সংগীতশিল্পীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া। কারণ, তারা সুরের মূর্ছনায় স্মরণ করিয়ে দেন আল্লাহ এবং তার রাসূলের কথা। বান্দাদের উপর আল্লাহর নেয়ামত-অনুগ্রহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর দরদ-ভালোবাসার কথা। জানিয়ে দেন মানবপ্রেম কিংবা ইসলামের ভিন্ন দিকনির্দেশনা।

আনন্দের সময় হোক কিংবা মন খারাপের সময়ই হোক সংগীত মানুষের নিত্যদিনের সংগী। গুন গুন করে কে না গান গেয়ে ওঠেন চলতে চলতে। সংগীতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাও করা হয় এখন। সারা বিশ্বেই নানা ভাষায় সমান তালেই চলছে সংগীতের চর্চা। আজ বিশ্বের সকল সংগীত প্রেমীদের জন্যই বিশেষ একটি দিন। আজ সংগীত দিবস।

যে ভাবে এলো বিশ্ব সংগীত দিবস ১৯৮২ সালে ফ্রান্সে ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ বা ‘মেক মিউজিক ডে’ নামে একটি দিনের উদ্যাপন শুরু করা হয়। ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং ১৯৮১ সালে ভাবতে শুরু করেন বিষয়টি নিয়ে। ১৯৭৬ সালে ফ্রান্সে মার্কিন সংগীতশিল্পী জোয়েল কোহেন ‘সামার সোলস্টাইস’ বা গ্রীষ্মকে উদ্যাপন করতে রাতভর গান করার প্রস্তাব তোলেন। ২১ জুনের সংগীত দিবস সেই থেকে শুরু। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০৮টি দেশে স্থানীয়ভাবে অথবা ফরাসি দূতাবাসের সহায়তায় এ দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও এ দিবসটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

সংগীত দিবসে কী করেন শিল্পীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগীত দিবস পালিত হয় কীভাবে পালিত হয় সংগীত দিবস। জানা গেছে, পার্ক, যানবাহন, বেস্টুরেন্টে সংগীত দিবসে বিনা মূল্যে গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গানে মূলত সবার জীবনের শান্তি কামনা করা হয়।

বাংলাদেশের সংগীত দিবস ‘বিশ্ব সংগীত দিবস ২০১৯’ শিরোনামে বড় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানে ১০টি ভাষার গান গাইবেন ৪৫ জন শিল্পী। এছাড়া থাকছে শোভাযাত্রার আয়োজনও। শিল্পকলার জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এই আয়োজন শুরু হবে বিকেল ৪টায়।

এই অনুষ্ঠানে বাংলাসহ ১০টি ভাষার গান গাইবেন ৪৫ জন শিল্পী। পরিবেশনার শুরু ও শেষ হবে বাংলা দেশাত্মবোধক গান দিয়ে। শুরুতে ‘আমারও দেশেরও মাটিরও গন্ধে’ গাইবেন রাজীব, ইউসুফ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, অনুপমা মুক্তি ও রাশেদ। শেষ হবে ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ দিয়ে। গাইবেন বাদশা বুলবুল, ডলি সায়ন্তনী, মৌটুসী, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস, সবুজ, শরীফ, সুস্মিতা ও সুমি মির্জা।

মাঝে চীনা ভাষায় গাইবেন দিনাত জাহান মুন্নী, প্রতীক হাসান ও পুতুল। ইংরেজি ভাষায় সাব্বির, আরমিন মূসা, জয় শাহরিয়ার ও আর্নিক। স্প্যানিশ ভাষায় আলিফ আলাউদ্দিন, সুজন আরিফ, মেহরাব ও ফারশিদ। উর্দুতে পুলক, পারভেজ, সিঁথি সাহা ও বেলি আফরোজ। আরবি ভাষায় কোনাল, রাফাত ও হৈমন্তী।

নেপালি ভাষায় লুইপা, সজীব ও পিংকি ছেত্রি। রুশ ভাষায় রন্টি দাস, ডি রক স্টার শুভ ও স্মরণ। হিন্দিতে কনা, মুহিন, ইমরান ও লিজা এবং জাপানি ভাষায় গাইবেন ইবরার টিপু, শান ও বিন্দু কণা।

গান পরিবেশনার আগে সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে হবে বিশেষ শোভাযাত্রা। সেখানে একাডেমির মহাপরিচালক ছাড়াও প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com