২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

বেকারদের কর্মসংস্থানে নাসিমের যত অবদান

বেকারদের কর্মসংস্থানে নাসিমের যত অবদান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুরবাসীর চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থান করে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন অদ্বিতীয় নেতা। এলাকার কোনো মানুষকে তিনি ফেরাতেন না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে না পারলে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিতে ফোন করে এলাকার বেকারদের চাকরি নিশ্চিত করতেন নাসিম। এলাকার মানুষের উপকারের জন্য অন্য মন্ত্রণালয়ে চাকরির জন্যও সুপারিশ করেছেন তিনি। তাছাড়া নিজ জেলা ও এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন। এ কারণেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জের কাজীপুরবাসীর নয়নমণি ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ১৯৮৬ সাল থেকে শুরু করে মাঝখানে এক মেয়াদ (২০০৮, এ সময় মামলার কারণে তিনি নির্বাচন করতে পারেননি) ছাড়া প্রত্যেকবারই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে।

কাজীপুরসহ সিরাজগঞ্জবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও অধিদফতরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম। এর বাইরে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, টেক্সটাইল, বেসরকারি হাসপাতাল, দেশের বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি, এমনকি গার্মেন্টসের বিভিন্ন পদেও এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

সিরাজগঞ্জ-১ এলাকাবাসী জানান, মোহাম্মদ নাসিম শুধু চাকরিই দেননি। চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন। শুধু কাজীপুর উপজেলা নয়, তিনি পুরো সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া তথা গোটা উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এসব জেলায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য মোহাম্মদ নাসিম সংশ্লিষ্ট আসনের এমপিদের সহযোগিতা করেছেন।

এলাকার অনেকে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রূপকার। কাজীপুরের পাশের উপজেলা বগুড়ার ধুনট উপজেলাও মোহাম্মদ নাসিমের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আলোয় আলোকিত। কাজীপুরের উন্নয়নের ঢেউ এই উপজেলাতেও লেগেছে। কাজীপুর এবং ধুনট উপজেলায় কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাওয়া দুস্কর। মোহাম্মদ নাসিম নিজেই বলেছেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এলজিইডি কাজীপুরের প্রয়োজনীয় কোনো সড়কই আর কাঁচা থাকবে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদ নাসিম এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। কাজীপুরে সরকারি মনসুর আলী কলেজে চারটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা, কাজীপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, পাঁচতলা আধুনিক রেস্ট হাউজ ভবন নির্মাণ, কাজীপুর কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, মনসুর নগর, নাটুয়ারপাড়া, তোকানী, নিশ্চিন্তপুর, গান্ধাইল ও চালিতাডাঙ্গায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট আমিনা মনসুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, মেঘাই পর্যটনের কাজ, পিউব্লিউডি’র তত্ত্বাবধানে ৫০০ আসন বিশিষ্ট শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ার নির্মাণ, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ, কাজীপুর ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরস ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (এফডব্লিউভিটিআই) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স) নির্মাণ, গান্ধাইলে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভবন নির্মাণ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, উপজেলা কমপ্লেক্স এর সম্প্রসারিত ভবন ও হলরুম নির্মাণ, জিওবি’র অর্থায়নে বিভিন্ন মেয়াদে ২৪৬ জন নারীকর্মীকে কর্মসংস্থানসহ আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়া, মেঘাই খাদ্যগুদামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন নাসিম।

অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও এতদঅঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করে জনতার নয়নের মণি কোঠরে জায়গা করে নিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম।

আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নাসিম। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com