২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

বেকার হাজারো রাইডার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে। আরোপ করা হয়েছে নানা নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে গণপরিহন ও রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বন্ধ করা অন্যতম। ফলে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই পরিবহনসংকটে পড়েছে কর্মমুখী মানুষ। বেকার হয়ে পড়েছে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত বিশাল জনগোষ্ঠী।

রাজধানীতে বেশ কয়েকটি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস রয়েছে। এর মধ্যে উবার, পাঠাও, মুভ, লেটস গো, ইজিয়ার, ওভাই, ডাকো ক্যাপ্টেন, সহজ রাইড অন্যতম। এসব সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত জনশক্তির সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারো কাছেই। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ২০১৯ সালের এক হিসাব বলছে, ঢাকা শহরে ২৫ হাজারের মতো রাইডার রয়েছে। আর গুগল প্লেস্টোরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এক লাখেরও বেশি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ নামানো হয়েছে। সে হিসাবে বলা যায়, ঢাকাসহ সারা দেশে এক বিশাল জনগোষ্ঠী এই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। করোনা নিষেধাজ্ঞা তাদের বিপাকে ফেলে দিয়েছে।

কথা হলো রাইডার সুমনের সঙ্গে। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা এই যুবক এখন বেকার। তিনি বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আমার ইনকাম হতো এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। ঘরভাড়া দিয়ে ভালোই চলত। করোনা নিষেধাজ্ঞায় বেকার হয়ে পড়েছি। অথচ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা কর্মক্ষম থাকতে পারতাম। এখন সংসার কিভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।’

আরেক রাইডার মাসুম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এই লকডাউন লাথি মারে গরিবের পেটে। সামনে ঈদ। পরিবার আছে। আমাদের কী দিয়ে কী হবে কে জানে!’

বাড্ডা এলাকায় আড়াই হাজার টাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন পাঠাও চালক সাইফুদ্দিন। দেশের বাড়িতে তাঁর দুই মেয়ে, মা আর স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টের চাকরি হারিয়ে গত বছর থেকে উবার ও পাঠাও সার্ভিসে যুক্ত হয়েছি। ভালোই চলছিল সব কিছু। কিন্তু সরকারের এই করোনা নির্দেশনায় সব কিছু থমকে গেল। অথচ আমাদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাইড শেয়ার করা সহজ। কারণ আমাদের মুখে মাস্ক থাকার পাশাপাশি হেলমেটও থাকে।’

রাজধানীর ফার্মগেট থেকে লালবাগ যাবেন বেসরকারি চাকরিজীবী শিমুল হক। স্বাভাবিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে তাঁকে ২০ টাকা বাসভাড়া দিতে হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ। অথচ অফিসে যেতে হবে। কিন্তু সড়কে এসে কোনো বাহনই পাচ্ছেন না। রিকশা চললেও ভাড়া চাচ্ছে আকাশচুম্বী। আবার অনেকটা সময়ও ব্যয় হবে। তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকায় ভোগান্তিটা বেড়েছে। আবার কিছু মোটরসাইকেল চুক্তির ভিত্তিতে যাচ্ছে। তারা ভাড়া নিচ্ছে অনেক বেশি।’

বিনা অ্যাপে চলছে খেপ : সরকারের নির্দেশনা থাকলেও পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়নি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস। এখনো উবারের কিছু রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চলছে অ্যাপে। পাশাপাশি বিনা অ্যাপেও চলছে। রাজধানীর হাতিরঝিলের এক প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন রাইডার মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের একজন সোহেল আরমান বলেন, ‘অ্যাপ বন্ধ। কিন্তু পেট তো আর বন্ধ করা যায় না। আমাদের পরিবার আছে। তাই একটু একটু করে চালাই।’ নাম প্রকাশ না করে পাশে থাকা আরেক রাইডার বলেন, ‘গরিবের পেটে সবাই লাথি মারে। গতকাল এক যাত্রী উঠাইলাম; কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে এসে নামিয়ে দিল। ট্রিপটা আর মারা হলো না। এমন চলতে থাকলে কী করে খাব!’

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়। তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী দুই সপ্তাহ মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত (আপাতত দুই সপ্তাহ) রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। এর প্রতিবাদে ১ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন রাইডাররা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com