১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্ষুব্ধ হামিদ কারজাই

ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্ষুব্ধ হামিদ কারজাই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নিজের ক্ষুব্ধতার কথা প্রকাশ করলেন। তিনি বলেছেন, তার দেশের মানুষ কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়ন করেনি, বরং তাদের গোটা দেশটাই নিপীড়নের শিকার।

সম্প্রতি রাইসিনা সংলাপে অংশ নিতে নয়াদিল্লি সফরকালে এক সাক্ষাৎকারে হামিদ কারজাই এ কথা বলেন। তার এ সাক্ষাৎকার মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশ হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

গত ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে পাস হয় সিএএ। সংসদে বিলটি পাসের সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে এ আইন করা হয়েছে। এই দাবির মাধ্যমে কার্যত তিনটি দেশকেই সংখ্যালঘু নির্যাতনে অভিযুক্ত করেছে ভারত।

আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমরা কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়ন চালাইনি। বরং আমাদের পুরো দেশটাই নিপীড়নের শিকার। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছি। আফগানিস্তানের তিনটি প্রধান জনগোষ্ঠী- মুসলিম, শিখ ও হিন্দু- তারা একইভাবে এ নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

হামিদ কারজাই বলেন, ভারতে যা ধারণা করা হয় তার চেয়ে আফগানিস্তানের মানুষের চিন্তা-চেতনা ভিন্নতর। আমি যখন রাষ্ট্রপতি হই, তখন আমার বহুদিনের চেনা একটি স্কুলের এক বৃদ্ধ প্রধান শিক্ষক দেখা করতে আসেন। ফিরে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমার একটা অনুরোধ আছে : আমাদের হিন্দু ও শিখরা অনেক বেশি ভুগেছে (তালেবান শাসনের সময়), তারা আরও ভালো জীবনযাত্রার দাবিদার। সুতরাং যারাই পাকিস্তান বা ভারতে ফিরে গেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে সম্পদ-সম্পত্তি ফিরিয়ে দিন।’ এটাই আফগানিস্তানের মানুষের চিন্তা-চেতনা। আমি আশা করি ভারতেও এমন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হবে, অন্য আফগান এমনকি মুসলমানদের প্রতিও।

ধর্মীয় বিবেচনায় নাগরিকত্ব দেয়ার আইন করার পর থেকেই ঘরে-বাইরে বেকায়দায় ভারত সরকার। একদিকে দেশজুড়ে যেমন চলছে বিক্ষোভ, অন্যদিকে বহির্বিশ্বে সমালোচনা। দেশে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বদরবারে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে তারা।

যদিও ভারতের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অসন্তোষ চেপে রাখেনি। পাকিস্তান সরকার প্রথম থেকেই এ আইনকে বিতর্কিত বলে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা বুঝতে পারছি না কেন (ভারত সরকার) এটা করলো। তবে এটা দরকার ছিল না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, আফগানিস্তানের তরফ থেকে সরকারিভাবে কাবুল কিছু না বললেও দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি কারজাইয়ের এমন মন্তব্য গুরুত্ব দিতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com