২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ডে আইএসের সঙ্গে হোম গ্রোনদের যোগাযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বাংলাদেশের ৮২ ভাগ জঙ্গি ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদের পথে পা বাড়িয়েছে। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে এক উপস্থাপনায় এ তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ২৫০ জঙ্গির সঙ্গে কথা বলে এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। জরিপে উঠে আসে, দেশের ৮০-৮২ ভাগ জঙ্গি ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপস ব্যবহার করে জঙ্গিবাদের পথে ধাবিত হচ্ছে। এদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থী ও ২২ শতাংশ মাদরাসার পড়াশুনা ছেড়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জঙ্গিরা আগে শুধু ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করত। তবে এখন তারা কৌশল পাল্টে থ্রিমাসহ নতুন নতুন অ্যাপস ব্যবহার করছে, যে কারণে তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ ও ইন্টারপোলের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিয়েছেন আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের কর্মকর্তারা। ঢাকায় পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, হোম গ্রোন জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ডে যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে দেশীয় জঙ্গিদের আইএস-অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়া বা অন্য কোনো কর্মকা-ে যুক্ত থাকার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সোমবার সোনারগাঁ হোটেলের লবিতে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কথা বলেন। সম্মেলনের প্রথম দিনে জঙ্গিবাদ বিশেষজ্ঞ রোহান গুণারতেœ বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা করেছিল আইএস; জেএমবি নয়। তাদের হোম গ্রোন বলা ভুল। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অসত্য বলেছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইজিপি বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠীটির অনেকে তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেউ বলেননি তারা আইএস। অনেকে মারা গেছেন। তাদের আত্মীয়স্বজনও বলেননি। সবাই জেএমবির কথাই বলেছেন। এ কে এম শহীদুল হক বলেন, এরা কেউ বাংলাদেশ ত্যাগ করে আইএসের সঙ্গে ট্রেনিং নেয়নি। তবে ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ডে তাদের বিচরণ থাকতে পারে। নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। ফেসবুকে থাকতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকতে পারে। সেটা তাদের নিজস্ব। আইজিপি দেশীয় জঙ্গিদের আইএস বলে চালানো একটা প্রোপাগান্ডা (প্রচারণা) এবং বেইজলেস প্রোপাগান্ডা (ভিত্তিহীন প্রচারণা) বলে উল্লেখ করেন। কারণ, তার ভাষায়, গুলশানের ঘটনার পর আইএস হামলার দায় স্বীকার করলেও এরপর পুলিশি অভিযানে যারা নিহত হয়েছেন, আইএস তাদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। রোহান গুণারতেœর বক্তব্য সম্পর্কে শহীদুল হক বলেন,  রোহান পুলিশ কর্মকর্তা বা সেনা কর্মকর্তা নন। তিনি নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে মাঠে কাজ করেন না। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। তিনি তার মতো করে বলেছেন। এ দেশের প্রেক্ষাপট তার ভালো জানা নেই। তবে বাংলাদেশের হোম গ্রোন জঙ্গিরা আইএস ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে বা নব্য জেএমবি আইএস ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। কিন্তু আইএসের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। রোহান যা বলেছেন, তা বাংলাদেশ পুলিশ অনুমোদন করে না বলেও জানান এ কে এম শহীদুল হক।

patheo24/mr

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com