২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং , ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ভ্যাকসিন প্রয়োগের রোডম্যাপ চূড়ান্ত

ভ্যাকসিন প্রয়োগের রোডম্যাপ চূড়ান্ত

ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন

টিকার অর্ধেকই বয়ঃবৃদ্ধরা পাবে

প্রতিডোজ টিকার মূল্য ৪ ডলার

কাজ করবেন সাত সহস্রাধিক সদস্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলতি মাসেই দেশে আসছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ হিসেবে ছয় মাসে এই ভ্যাকসিনের তিন কোটি বা তার বেশি পরিমাণ ডোজ ক্রয় করা হবে।

চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিনের প্রথম চালান দেশে আসবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন নিবন্ধন, ভ্যাকসিন কার্ড, সম্মতিপত্র, ভ্যাকসিন সনদ প্রদানে আইসিটি বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতর সুরক্ষা ওয়েবসাইট প্রস্তুত করছে। ভ্যাকসিন পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রদানের সময় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের পুলিশ বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজারি গ্রুপের নির্দেশনা ও দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথম ধাপে দেশের মোট জনসংখ্যার আট দশমিক ৬৮ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি ৫০ লাখ জনগোষ্ঠীকে তালিকাভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী (চার লাখ ৫২ হাজার ২৭ জন), কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সব বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী (ছয় লাখ), বীর মুক্তিযোদ্ধা (দুই লাখ ১০ হাজার), সম্মুখসারির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (দুই লাখ ৭৩ হাজার ৩১০ জন), সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ( এক লাখ ৮০ হাজার ৪৫৭ জন), রাষ্ট্রপরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী (২৫ হাজার ), সম্মুখসারির গণমাধ্যম কর্মী (২৫ হাজার), নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (৮৯ হাজার ১৪৯), সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির কর্মচারী (৭৫ হাজার), মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি (৩৭ হাজার ৫০০), জরুরি পানি, গ্যাস, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবহন কর্মচারী (দুই লাখ), স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর কর্মী (৭৫ হাজার), প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক (৬০ হাজার), জেলা ও উপজেলা সমূহের জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারী (দুই লাখ), বয়স্ক জনগোষ্ঠী (৮০ বছরের বেশি বা সমান (১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩), বয়স্ক জনগোষ্ঠী ৭৭ থেকে ৭৯ বছর (১১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৩), জাতীয় দলের খেলোয়াড় (ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ইত্যাদি) (১০ হাজার ৯৩২) এবং বাফার ইমার্জেন্সি আউটব্রেক (৭০ হাজার) -কে প্রথম দফায় টিকা প্রদান করা হবে।

করোনা ভ্যাকসিন ৬৪ জেলা ইপিআই স্টোর এবং ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে সংরক্ষণ করা হবে। কোভিড ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করে যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশনের ইপিআই স্টোরসমূহকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জাতীয় পর্যায়ে কোল্ড চেন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএডিসি ও অন্যান্য জায়গা থেকে কোল্ড রুম ভাড়া নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশে আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে। এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনলাইন নিবন্ধনের জন্য ২৬ জানুয়ারি থেকে ‘সুরক্ষা’ নামের একটি মোবাইল ও ওয়েব-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হতে পারে। দেশে ভ্যাকসিন আসার পরে মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে প্রয়োগ করা হবে। এরপর এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে মাঠ পর্যায়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা শুরু হবে।

করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করতে একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করেছে সরকার। ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ২০২১’ নামে এই টিমের সদস্য করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে। এই টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (জনস্বাস্থ্য অধিশাখা) বেগম নিলুফার নাজনীন এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব বেগম আঞ্জুমান আরাকে। পাঁচ সদস্যের এই টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী, প্রতিষ্ঠান ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. মফিজুল ইসলাম বুলবুল এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা। ভ্যাকসিন সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের সব তথ্যের হালনাগাদ পরিসংখ্যান সংগ্রহের পাশাপাশি করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও সংরক্ষণ করবে এই টিম। সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের কাজটিও করবে তারা। বিভিন্ন কার্যক্রম ও অন্যান্য জরুরি বিষয় প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট সচিবকে অবহিত করবে এই টিম।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, বেক্সিমকো ফার্মা আমাদের জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে। বিদেশে রফতানি করতে সিরাম ইন্সটিটিউটের যে আইন কানুন আছে তা সম্পন্ন করতে এই সময়টুকু লাগবে। দেশে আসার পরে ভ্যাকসিন শুরুতে রাখা হবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওয়্যার হাউজে। কিছু কাগজপত্র ঠিক করে পরে তা স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত স্থানে পাঠিয়ে দেবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা : ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক হয়েছে। ভ্যাকসিন ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো পর্যন্ত যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা দেবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

টিকার অর্ধেকই বয়ঃবৃদ্ধরা পাবে : ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে ৫০ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা দেশে আসছে, তার অর্ধেকই বয়ঃজ্যেষ্ঠদের দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে এই টিকা আসার পর ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে টিকাদান শুরু হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবারই জানিয়েছে। অক্সফোর্ডের টিকা কোভিশিল্ড আনা ও বিতরণ নিয়ে অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুরুর ৫০ লাখ ডোজ টিকার পুরোটাই ৫০ লাখ মানুষকে প্রয়োগ করা হবে।

অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, “কোভিডে আক্রান্ত হলে বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর হার বেশি হয়। আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের কথা চিন্তা করেই ৭৭ বছর বয়সের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার তালিকায় সবার ওপরে রেখেছি।”

এই বয়স্কদের চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন ২০১১ সালে আমাদের একটা আদমশুমারি হয়েছে। ২০২১ এর আদমশুমারি সামনে। ওইটা হিসাব করেই আমাদের এই প্রজেকশনটা দেওয়া হয়েছে।” ১৮ বছরের কম বয়সীদের কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন,“কারণ পৃথিবীর অন্য দেশে কোথাও ১৮ বছরের নিচে কারও উপর ট্রায়াল হয় নাই। কাজেই এটা তাদের ওপর দেওয়া হবে না।

প্রতিডোজ টিকা ৪ ডলারে বিক্রি করবে সিরাম : অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিন ভারতে বাজারজাত করছে সিরাম ইনস্টিটিউট। এই ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ বাংলাদেশেকেও দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

তবে সিরাম ইনস্টিটিউট কত দামে সেই ভ্যাকসিন বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করছে তা এতদিন অজানা ছিল।

অবশেষে জানা গেছে, সিরাম প্রতিডোজ করোনা ভ্যাকসিনের জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে চার ডলার করে নিচ্ছে। আর এই দাম ভারতে ভ্যাকসিনটির দামের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনটি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে রয়টার্স। রয়টার্স বলছে, সিরাম ভারতে দুইশ রুপি বা ২.৭২ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩০.৯৪ টাকা) প্রতিডোজ করোনা ভ্যাকসিন বিক্রি করবে। আর বাংলাদেশের কাছে প্রতিডোজ ভ্যাকসিন বিক্রি করবে ৪ ডলার বা ৩৩৯.৬২ টাকায়।

কাজ করবেন সাত সহস্রাধিক সদস্য : দেশে প্রথম দফায় ৫০ লাখ করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রদানে কাজ করবেন সাত হাজার ৩৪৪ সদস্যের ভ্যাকসিন দল। প্রতিটি দলে ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য দুজন নার্স, সাকমো/পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা এবং তাদের সঙ্গে চারজন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। রাজধানীসহ সারাদেশে ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে তারা কাজ করবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা সদর হাসপাতাল, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, পুলিশ, বিজিবি হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএইমএইচ) এবং বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতালে ভ্যাকসিনেশন সেন্টারগুলো স্থাপিত হচ্ছে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে: করোনার ভ্যাকসিন নিলে মাথাব্যথা, হালকা জ্বর, যেখানে টিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা বা কারও কারও বমিও হতে পারে। সিভিয়ার যে রিঅ্যাকশন হয় সেটা হচ্ছে শ্বাসকষ্ট হওয়া। সিভিয়ার জ্বরও হতে পারে। তবে এটা সাডেন শক।
কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিকা বিতরণ কমিটির সদস্য ডা. শামসুল হক এ কথা জানান।

তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার খুবই কম জানিয়ে ডা. শামসুল হক বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার দুই থেকে তিন শতাংশের মতো।

প্রতিবেশী দেশগুলো পাবে ১৬ জানুয়ারি থেকে : অনুদান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভারত জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে ১৬ জানুয়ারির পর করোনার টিকা দিবে বলে জানা গেছে। ভারত ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে কোভিড -১৯ টিকা দেওয়া শুরু করবে। মঙ্গলবার হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুদান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভারত জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলিতে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে। মোদি সরকার ১৪ জানুয়ারির মধ্যে এক কোটির বেশি ভ্যাকসিন কিনবে। তিন কোটি ডোজ টিকার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। নেপাল, ভুটান, মায়ানমার এবং শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী যারা ভারতীয় ভ্যাকসিনের জন্য নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com