বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
যে কারণে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন মারিয়ার ইসলাম গ্রহণ হঠাৎ করে আয়শার বাড়িতে হাজির আবুধাবির রাজা! মুর্শিদাবাদে প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি ধর্ষকদের শাস্তির দাবীতে হিন্দ জমিয়তের মিছিল ভারতে আবারও ধর্ষণের শিকার নারীর শরীরে অগ্নিসংযোগ শিশুকে শিক্ষার সাথে দীক্ষাও দেই | রেক্স সালমান দুর্নীতি বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে : সেতুমন্ত্রী নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষার কারণেই মানুষ চরিত্রহীন হচ্ছে : চরমোনাই পীর মাওলানা আজিজুল হক হুজি প্রতিষ্ঠাতা উল্লেখ করে সংবাদ; ক্ষমা চাইলো যমুনা কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া বলো না : প্রধানমন্ত্রী ইমাম হয়ে কাতার যেতে প্রধানমন্ত্রীর সহাযোগিতা চায় ‘হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি; মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গত বুধবার জাতীয় দৈনিকে দুটি খবর প্রকাশিত হয় ডেঙ্গু সম্পর্কে। একটির শিরোনাম ছিল, সিটি কর্পোরেশন কি জ্বালা বুঝবে? অপরটির ছিল ‘ডেঙ্গু রোগীর নতুন রেকর্ড’। এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে ভয়াবহ। দুর্বিষহ। ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

গত ২৩ জুন ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৮। এক মাসের ব্যবধানে সে সংখ্যা বেড়ে প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। গত মঙ্গলবার ২৩ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৪৩। রাজধানীর ৩৬টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ মাসের মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৩ দিনে আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৩৭ জন। আর চলতি বছরে ওই দিন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৭৬৬-তে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে যত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে তা রেকর্ড। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে- তিন হাজার ৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, রোগীর বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেতে সমস্যা হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যে সাত হাজার ৭৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র দুই হাজার ১৭৬ জন রোগীর তথ্য তারা নথিবদ্ধ করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৮৫৭ জন, নারী ৬৭৪ ও শিশু ৬৪৫ জন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি কমপক্ষে ২০।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এর লক্ষণ ও উপসর্গ বদলে যাওয়া। শনাক্তকরণে সমস্যার কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়েছে। এবার ডেঙ্গুতে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হচ্ছে। সময়ক্রমও বদলেছে; সাধারণত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এবার মে মাসেই বৃদ্ধি শুরু হয়েছে; জুনে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮১৪ জন। এ বক্তব্য সরাসরি স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্ক থাকা খুব জরুরি। জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ডেঙ্গু ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং রোগ সারার পরও সজাগ থাকা দরকার। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শও দেন তাঁরা।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রথম দেখা দেয় ২০০০ সালে। সে বছর এ রোগে মারা যায় ৯৩ জন। তিন বছর পর কমতে থাকে এবং কয়েক বছর মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় ছিল। গত বছর আবার ব্যাপকভাবে দেখা দেয় ডেঙ্গু; ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়, মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এবার অবস্থা আরো খারাপের দিকে। মাঝখানে অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরও কেন পরিস্থিতি আবার খারাপ হলো তা খতিয়ে দেখা দরকার। মোকাবেলার যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বাড়াতে হবে জনসচেতনতাও। তবেই দূর হতে পারে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com