১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

মডেল মসজিদে কওমী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হোক

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

গ্রাম্য ভাষায় বলে, ঘরামির চালে ছোন থাকে না। অপরের জন্য শুধু ঘর বেঁধেই যায়, কিন্তু নিজের ঘর কোনদিন নির্মাণ হয় না।

আবার আরেক বন্ধু মাওলানা আহমেদ মাসরুর বললেন, অপরের ক্ষেতের মহিষ তাড়ায় কওমীর ভায়েরা। অপরের ফসল রক্ষা করে কিন্তু কেউ সে ফসলের ভাগ নিতে পারে না।

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র সকলেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যায়, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে পারে না।

ঠিক আওয়াজ উঠেছে, ‘কওমীরা উপেক্ষিত, কওমীর সন্তানেরা বঞ্চিত’। কওমী সন্তানেরা মেধাবী এবং যোগ্য হওয়া সত্বেও তারা আসল সময়ে বঞ্চিত থাকে। অথচ যারা আজীবন সরকারের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর। তারা ঠিকই সময় কালে নৌকার যাত্রী সেজে সওয়ার হয়ে যায়। আর আমাদের সন্তানেরা কিছু মানুষের সামান্য ভুলের কারণে মাশুল গুনতে হয়।

আল্লামা আহমাদ শফী (রহ.) ও আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) সাহেব যেমনটি চাচ্ছিলেন, সরকারের সাথে সংঘাত নয়, বরং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দ্বীনি কাজগুলো আমরা আদায় করে নেব। তার একটা স্পষ্ট প্রমাণ কওমী সনদের স্বীকৃতি। ওনারা সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রাখার কারণে কিন্তু একটা দুঃসাধ্য কাজ সম্ভব হয়েছে। নচেৎ কোন কালেই হত না।

কত সরকার এসেছে, কেউ কিন্তু কওমীদের নিয়ে মাথা ঘামায়নি। কিন্তু আমাদের মুরুব্বীদের সাথে সরকারের সখ্যতা কওমীকে এগিয়ে দিয়েছে বহু বছর সামনে। ইসলামী মূল্যবোধের সরকার হওয়ার পরেও তারা কিন্তু কওমী মাদ্রাসাকে বাঁকা চোখে দেখেছে। আলেমদের কোন দাবী মেনে নেয়নি। কিন্তু যে সরকার ইসলামের দোহাই দেয়নি। তিনি হয়ে গেলেন আলেমদের কল্যাণকামী।

যাই হোক, আলেমদের সাথে সরকারের এমন সখ্যতা এমন হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ কিন্তু ঐ ওদের সহ্য হয়নি। কেননা, ওরা তো কওমীর স্বীকৃতিই চায়নি। এজন্য হিংসুকদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছিল। কিভাবে আলেমদের সাথে সরকারের দুরত্ব তৈরী করা যায়।

কেউ কেউ মডেল মসজিদে চাকুরি করাকে অশোভনীয় ভাব দেখাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, ওরা কিন্তু আমাদের কওমী অঙ্গনের কেউ নয়।

সরকার যে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এটাতো কওমী আলেমদের হক। এর আগের মন্ত্রী মহোদয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ডিজি মহোদয় এবং রাষ্ট্রের বড় বড় ব্যক্তিদের মন্তব্য আমরা শুনেছি। তারা সকলেই মত দিয়েছেন, কওমীর শিক্ষার্থীদের যেহেতু কর্মক্ষেত্র কম, সে হিসাবে মডেল মসজিদে তাদের খেদমতের সুযোগ হোক। কিন্তু আজ কিছুদিন ধরে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে কি আর কওমীর সন্তানেরা সে সুযোগ পাবে?

ঐ মওদুদীপন্থী যারা, তাদের তো রূপ বদলাতে সময় লাগে না। যে কোন সময় রূপ বদলাতে পারে। ওরা তো ওঁৎ পেতে রয়েছে। কওমী আলেমদের সাথে সরকারের দুরত্বের সুযোগটা তারা সৎ ব্যবহার করবে। তাই শোনা যাচ্ছে, কওমীর সন্তানেরা তেমন সুযোগ পাচ্ছে না।

অথচ কওমী তথা দেওবন্দী মাদ্রাসার ছাত্ররা সবদিকে যোগ্যতা সম্পন্ন। ইলমে কেরাত, সহীহ আকায়েদ ইত্যাদি বিষয়ে যোগ্যতা রাখে। এরপরেও যদি এসব সন্তানেরা মাহরুম হয় তাহলে দুঃখের শেষ থাকবে না।

অনলাইনে অনেকে অনেক কথা বলছে, কেউ কেউ মডেল মসজিদে চাকুরি করাকে অশোভনীয় ভাব দেখাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, ওরা কিন্তু আমাদের কওমী অঙ্গনের কেউ নয়। ওরা এগুলো প্রচার করে শেষমেষ কিন্তু ওরা তলে তলে যোগ দিবে। আর কওমীর সরল আলেমদের নিবৃত্ত করে রাখবে।

সরকারের যে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করা আমাদের নাগরিক অধিকার। এটা একজন নাগরিক হিসাবে সে যোগদান করতে পারে। এ জন্য কে দালাল বলল আর চামচা বলল, তাতে কান দেওয়া যাবে না। এটা ওদের কৌশল। কওমী অঙ্গনের আলেমদের চেষ্টা করতে হবে মডেল মসজিদগুলোতে নিয়োগ পাওয়ার।

আমরা বিনীত নিবেদন করতে পারি মহামাণ্য সরকার মহোদয়ের কাছে, তিনি কওমীর শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেবেন। কেননা, আপনি কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আশা করি, এই মডেল মসজিদগুলোকে সেই স্বীকৃত সনদের বাস্তবায়ন হবে। আল্লাহ সহজ করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: আমি গর্বিত আমি দেওবন্দী

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com