৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

মন পড়ে আছে মিনা-আরাফায়

মন পড়ে আছে মিনা-আরাফায়

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : হজ্জের দৃশ্যে বুকটা ফেটে যায়। হৃদয়ে বেদনাটা যেন আরো জমাট বেঁধে গেল। এই দাওয়া ( ঔষধ) তো আর এই দেশে নেই। এর খোরাক তো মক্কা- মদিনায়।

মেরা দিল তড়প রহা হায়

মেরা জ্বল রহা হায় সিনা

এ দাওয়া ওহী মেলেগী

মুঁঝে লে চলো মদীনা

হজ্জের দৃশ্য দেখে প্রতিটি মুমিনের দিল ছটফট করে। যেতে মনে চায় মক্কা – মদিনায়। আর এটাই প্রত্যেক মুমিনের কামনা- বাসনা। এমন কোন মু’মিন বান্দা নেই যার পবিত্র মক্বায় যেতে মন চায় না। এমন মুসলমান খুঁজে পাওয়া যাবেনা , যারা পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওযার পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দিতে চায় না। সবার একই আশা, মক্কায় যাব, মদিনায় যাব, প্রিয় নবীর শিয়রে গিয়ে দাঁড়াব।

হজ্জের মাস আসলেই কিন্তু মু’মিন মুসলমানের হৃদয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। এটা এমন আগুন, যা সহজেই নিভে না। এটা নিভাতে হলে মক্কার বায়তুল্লাহ আর মদিনার রওজার বিকল্প নেই।

আজকে হাজিরা এখন মিনাতে। মক্কায় তাওয়াফে কুদুম সেরে মিনাতে রওয়ানা হয়েছে। সেখানে তাঁবুতে অবস্হান। জোহর থেকে নিয়ে কালকে ফজর পর্যন্ত মিনাতে অবস্থান। অর্থাৎ আরবী হিসাবানুযায়ী ৮ জিলহজ্জ জোহর থেকে ৯ জিলহজ্জ ফজর পর্যন্ত মিনাতে অবস্থান সুন্নাত। এরপর ৯ জিলহজ্জ ইয়াওমে আরাফা, আরাফার দিন। হজ্জের সবচেয়ে বড় রোকন। সেখানে সারাদিন অবস্থান করবেন।

সব দৃশ্যগুলো কিন্তু আমরা অনলাইনে সরসরি দেখছি। মনটা বেচাইন হয়ে যাচ্ছে।ব্যাকুলতা বেড়েই চলেছে। আমরা এদেশে আছি ঠিকই, কিন্তু মনটা পড়ে আছে সেখানে।

মনটা চাচ্ছে ছুটে যাই। সেই মিনাতে।সেই আরাফায়। লক্ষ লক্ষ খোদাপ্রেমিকের সাথে মিলিত হই। লাব্বাইক, লাব্বাইক, ধ্বনিতে আকাশ- বাতাস মুখরিত করি। ফরিয়াদ করি দু হাত তুলে বারবার। মহান রববের করুণা ভিক্ষা চাই। আরাফার ময়দান তো এমন স্থান, যেখানে বান্দার গোনাহ মাফ হয়ে যায়। নিস্পাপ হয়ে ফিরে আসে। সে কেবল যেন তার মায়ের উদর থেকে বের হয়েছে।

” মান হাজ্জা লিল্লাহ, ফালাম ইয়ারফুছ ওয়ালাম ইয়াফসুক,রজায়া কাইয়াউমিন ওয়ালাদাতহু উম্মুহু”
যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্জব্রত পালন করল,তথায় কোন গোনাহ করল না, সে যেন নিস্পাপ হয়ে বাড়ী ফিরল” ( বুখারী, মুসলিম)

আহ, কি মোবারক জায়গা। কত পবিত্রময়। কত স্মৃতিময় স্থান। মুমিনের আত্মার খোরাক। মু’মিনের খোদাপ্রেমের নিদর্শনের স্থান। অন্তরে অনাবিল শান্তি আনয়ন করে।শত বেদনা, শত কষ্টের মাঝে হজ্জের সফরে যে কত প্রেম- ভালবাসা লুকায়িত আছে, যা কল্পনা করা যায় না । প্রেমাস্পাদের সাথে যেন মিলন। রবের সাথে যেন সাক্ষাতের এক সুবর্ন সুযোগ।

আল্লাহর পেয়ারা বান্দার ক্ষমা এবং দারাজাত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ মেলে হজ্জের ইবাদতের মাধ্যমে। এক অপুর্ব প্রেম- ভালবাসার নিদর্শন রয়েছে সেখানে। হাজার হাজার বছরের স্মৃতি। বেশুমার মানুষের উপস্হিতি হয়েছে হজ্জের ময়দানে। মহান প্রভুর রহমতে সিক্ত হয়ে ঘরে ফিরেছে সবাই। সে মোবারক জায়গাতে চম্বুকের মত টানতে থাকে খোদাপ্রেমিকদের।

তাই তো পাগলপারা আল্লাহর প্রিয়বান্দাগণ। বারবার ছুটে যেতে চায় সেখানে। যে যতবারই যায়, সে যেন আরো যেতে চায়। পিপাসা মেটেনা কভু। একবার যে পান করেছে সেই খোদাপ্রেমের শরাব, সে তো আবারও পান করতে চায়।

আজ বড় ব্যাথাতুর হৃদয়। বেদনায় ভরপুর। বাকশক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছি। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে হজ্জের কার্যক্রমগুলোর দিকে। আরো তীব্র ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে।

হজ্জের কার্যক্রম ঠিকই হচ্ছে, কিন্তু আজ আমরা দূরে। পবিত্রতম জায়গায় যেতে পারিনি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। ত্রিশ লক্ষ লোকের সমাবেশ যেখানে হয়। এখন মাত্র এক হাজার। স্বল্পপরিসরে। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে।

আয়ে মাওলায়ে কারীম! আয়ে রহমানুর রহীম! তোমার দয়ার ভিখারী আমরা। আমাদের উপর তোমার রহম বর্ষন কর। তোমার করুণার দরজা খুলে দাও। আমাদেরকে পবিত্র ঘরের মেহমান বানাও। আমিন।
লেখক : কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com