২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

মাথাল তৈরি করে ৪০ পরিবার স্বাবলম্বী

মামুন চৌধুরী ● খেত-খামারে কাজের সময় রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে বাঁশ-বেতের তৈরি মাথাল ব্যবহার করেন বাংলাদেশের কৃষক। মাথালের ব্যবহার শত শত বছর আগের। মাথাল ব্যবহার করে কৃষকরা যেমন স্বস্তি পান তেমন মাথার তৈরি করে জীবন জীবিকাও নির্বাহ করেন অনেকে।

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পূর্ব রুপশংকর গ্রামে মাথাল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে অন্তত ৪০টি পরিবার। এসব পরিবারের পুরুষরা বাঁশ সংগ্রহ করে চেরাই কাজে সহায়তা করেন। আর নারীরা গৃহ কর্মের ফাঁকে ফাঁকে তা দিয়ে মাথাল তৈরি করেন।
মাথাল ব্যবহারের সুবিধা হচ্ছে, এটি ব্যবহারের জন্য হাত দিয়ে একে ধরে থাকার প্রয়োজন হয় না। কাজের সময় মাথায় আপনা আপনি রেখে দেওয়া যায়। মাথালকে কেউ বাঁশের টুপি আবার কেউবা বাঁশের ছাতাও বলেন।

বাঁশ চিরে চমৎকার বুননে তৈরি করা হয় মাথাল। বৃষ্টির পানি রুখতে এর মধ্যে তার বা গুনায় জড়িয়ে দেওয়া হয় চিপস্ এর পরিত্যক্ত ফয়েল ।

তারা পাইকারের কাছে একটি মাথাল বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে প্রতিটি ৫০/৬০ টাকা বিক্রি করছেন।

পূর্ব রুপশংকরের বাসিন্দাদের কাছে মাথাল নির্মাণ হচ্ছে কুটির শিল্প। তারা অর্থাভাবে শিল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছিলেন না। এ সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় একটি এনজিও। তারা একটি গ্রুপ করে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করেন।

এ ঋণের অর্থে বেশি করে বাঁশ সংগ্রহ করেছেন তারা। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মাথাল তৈরিতে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
পূর্ব রুপশংকর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে আঙ্গিনায় বসে নারীরা মাথাল তৈরিতে ব্যস্ত। এ সময় আলাপ হয় মনোয়ারা বেগম (৪২), ছায়েদা খাতুন (৪১), আছমা আক্তার (২৫), জরিনা খাতুন (৪২), রেজিয়া বেগম (৪০), রাহেনা খাতুন (৩৫), পারভীন আক্তার (৩২), রোজিনা আক্তার (৩০) ও ছামিনা আক্তারের (৩২) সঙ্গে। তারা জানান, পাইকাররা বাড়ি এসে তাদের তৈরি মাথাল কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের চেয়ে মৌলভীবাজারের পাইকারদের কাছেই মাথালের বেশি চাহিদা।

পূর্ব রুপশংকর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেকিম জানান, মাথাল তৈরি করে এ গ্রামের নারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারেও স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তিনি ঋণপ্রদানকারী এনজিও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এনজিও প্রতিষ্ঠানের শায়েস্তাগঞ্জ এরিয়া ম্যানেজার মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ব রুপশংকরের নারীরা সৎ ও পরিশ্রমী। তারা আমাদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে দিন দিন সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ভাল লাগছে। আমরা চাই নারীরা গৃহের কাজের পাশাপাশি নিজেরা মিলে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলুক।’

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাজী মোঃ হোসেন শাহ জানান, পূর্বরুপশংকর গ্রামের মাথাল নির্মাতাদেরকে তাদের পক্ষ থেকেও প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com