২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

মাথিউরা চা বাগানে কফি চাষ

মাথিউরা চা বাগানে কফি চাষ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে হচ্ছে কফি চাষ। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় রাবার চাষ বাদ দিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ এখন ঝুঁকেছে কফি চাষে। চা বাগানটির ৪৪ একর জায়গায় প্রায় ১০ হাজার কফি গাছ লাগানো হয়েছে বলে জানান মাথিউরা চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার ইবাদুল হক। তিনি জানান, চা বাগানের রাস্তার পাশ দিয়ে, বাংলো ও সেকশনের আশপাশে কফি গাছগুলো লাগানো হয়েছে। গাছগুলোতে কফি ধরা শুরু হয়েছে। এগুলো আরব ভ্যারাইটির কফি গাছ। ইবাদুল হক বলেন, আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কফি চারা লাগিয়েছি। আমাদের চা বাগানের মালিক শামসুদ্দীন খানের স্বপ্ন ছিল চায়ের পাশাপাশি কফি বাগান তৈরি করা।

এখন চা বাগানে নতুন করে রাবার প্লান্টেশনের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চা বাগানগুলো আর নতুন করে রাবার চাষ করতে পারবে না। তাই আমরা রাবার ফেলে দিয়ে কফি লাগাব। শুধু চায়ের ওপর নির্ভর করা যাবে না। এমনিতেই করোনাসহ নানা সংকটের কারণে চায়ের দাম কমছে। এই সংকট কাটতে কাটতে বছর দুই লাগতে পারে। তাই আমরা বিকল্প ফসল হিসেবে কফিকে বেছে নিয়েছি। এতে চা বাগান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। মাথিউরা চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার আরও বলেন, বাংলাদেশে কফি চাষের উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। বান্দরবানে কফির বাগান আছে এবং সেই কফি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশে যে কফিটা আমরা লাগাচ্ছি সেই কফির মান অত্যন্ত ভালো। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের দেশে কফির কোনো প্রসেসিং ফ্যাক্টরি নেই। কফি দুই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয় বলে জানান ইবাদুল হক। তিনি জানান, একটা র’ কফি আরেকটা ইন্সট্যান্ট কফি। র’ কফি হলো- কফি বীজটাকে মেশিনে ভেঙে ফ্যাক্টরির ফ্লোরে ফারমেন্টেশন করা হবে। তারপর চায়ের মতো ড্রায়ারে শুকানো হবে। এরপর চা পাতার মতো ছাকনিতে ছেকে কফির রসটা চায়ের মতো খাওয়া হতো। এটা ছিল কফির প্রাচীন পদ্ধতি। এর নাম র’ কফি। আর ইন্সট্যান্ট কফি পরে এসেছে। বাংলাদেশে তৈরি র’ কফির প্রচুর চাহিদা বিদেশে রয়েছে উল্লেখ করে ইবাদুল হক বলেন, বাংলাদেশে ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন দোকানে ইদানীং আপনি দেখবেন কফি-মেকার নামে কফি তৈরির মেশিন রয়েছে। কিন্তু ঠিক সেরকম করে টি-মেকার মেশিন নাই। অর্থাৎ চা পাতা, দুধ ও চিনি মেশিনে ঢেলে দিলাম, কিছুক্ষণের মধ্যেই কফি-মেকারের মতো মেশিন চা তৈরি করে আমার হাতে পৌঁছে দিলো–এমন সুবিধা এখনও চায়ের ক্ষেত্রে নেই।

মাথিউরা চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার আরও বলেন, আমাদের দশ হাজার চারার বীজগুলো আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে আহরণ করা যাবে। এই গাছগুলোর বয়স প্রায় পাঁচ বছর। এ বছরই কফি আসা শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক (ডিডি) কাজী ফুৎফুল বারী বলেন, মাথিউরা চা বাগানের কফি চাষের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ জেলায় কফির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এটা নির্ভর করছে কফির ভ্যারাইটি, মাটি এবং পরিচর্যার ওপর। কৃষিমন্ত্রী নিজেও মৌলভীবাজার জেলায় কফি চাষকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার প্রয়োজনীয় অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com