১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

মাদরাসায় বাদ্যযন্ত্র—সরকার ও হেফাজতের দ্বন্দ্ব

পাথেয় রিপোর্ট : মূলধারার পাশাপাশি দেশের মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরও সাংস্কৃতিক কাজে যুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ সরকার৷ এজন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মাদরাসাগুলোতে দেয়া হবে বাদ্যযন্ত্রসহ নানা সাংস্কৃতিক উপকরণ৷ কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলছে বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম৷ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন আর জঙ্গিবাদকে সমূলে দূর করার লক্ষ্য নিয়েই এমন উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়৷

এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে.এম খালিদ জানান, মাদরাসা পড়ুয়া লাখো শিক্ষার্থী দেশের সংস্কৃতির বাইরে চলে যাচ্ছে৷ মঙ্গলবার পাঁচটি মাদরসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়৷ ওই অনুষ্ঠানেই তাঁদের কিছু সরঞ্জাম দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী৷

মাদরাসা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সম্পর্কে কে এম খালিদ বলেন, ‘ইসলামিক কালচার নিয়েও তাঁরা চিন্তা ভাবনা করে না, দেশের কালচারও নিয়েও ভাবে না৷ রাষ্ট্রীয় ইতিহাস তাঁরা সঠিকভাবে জানতে পারে না৷ এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুসলিম কালচার—সবই তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই৷’

কে এম খালিদ বলেন, ‘শুরু করেছি৷ দেখি, কতদূর যেতে পারি?’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই মূহূর্তে সরঞ্জাম বলতে, আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা দিয়েছি৷ তাঁরা তাঁদের প্রয়োজন মতো সেটি কিনে নেবে৷ যেটি ধর্ম এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়৷’

তবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত আছে হেফাজত ইসলামের৷ সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ফখরুল জানান, ‘এটা কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না, বাদ্যযন্ত্র ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক৷’

ফখরুল জানান, বাদ্যযন্ত্র শরীয়তে ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম৷ হারাম কার্যক্রম কোনো মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করবে এটা কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না৷” তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন৷ বৈঠকের পর তাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন৷

সরকারের এই উদ্যোগ প্রত্যাহারে জোর দাবি ও প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান হেফাজতে ইসলামের মিডিয়া সমন্বয়ক৷

বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের নজরে আনা হলে তিনি জানান, ‘আমরা তো কেবল শুরু করলাম৷ এ ধরনের কিছু আসেনি আমার কাছে৷’

এই উদ্যোগ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁরা কিভাবে করবেন৷ এ দেশের ইতিহাসকে ধরে রাখা, মুসলিম ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য যদি কোনো কালচারাল অনুষ্ঠান করে, সেখানে তো সাংঘর্ষিক কিছু নাই৷’

‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কোনো অনুষ্ঠান বা দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যদি তাঁরা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে—সেটা সাংঘর্ষিক হবে কেন?’—জানান প্রতিমন্ত্রী৷

তিনি বলেন, ‘সুফি মাদরাসাতে যাঁরা আছেন, কওমি মাদরাসাতে যাঁরা আছেন, তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন কিভাবে করবেন৷ তাঁদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি, ছেড়ে দিতে চাইছি৷ চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছি, দেখা যাক কি হয়৷ যেখানে বাধা আসবে সেখানে নিশ্চয় আমরা ক্লিয়ার করবো, এভাবে করা উচিত৷ তাঁরাও পরামর্শ দেবেন, কিভাবে করা উচিত৷’

এদিকে, সংস্কৃতির এই উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ৷ তিনি বলেন, ‘আলোচনা করে দেখি৷ এটা সমন্বয় করেই করতে হবে৷ মাদরাসাও তো বিভিন্ন প্রকারের আছে৷ মাদরাসা বলতে আজকাল একরকম বুঝায় না, অনেক রকম আছে৷’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে, তাঁকে পাওয়া যায়নি৷ তবে তাঁর একান্ত সচিব বলেছেন, এটি ফতোয়ার বিষয়৷ তাই বিষয়টি ফাউন্ডেশনটির ফতোয়া বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ এ বিষয়ে মতামত জানতে লিখিত আবেদনের পরামর্শ দেন তিনি৷ বলেন, ‘হাদিস কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে কোথায় জায়েজ আছে, কোথায় জায়েজ নাই—এ বিষয়ে আপনাকে জানিয়ে দেবে৷’

সূত্র : ডয়েচে ভেলে
পা.টো.ড/আদিল

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com