২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং , ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

মানব পাচার বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

মানব পাচার বন্ধে

সচেতনতা বাড়াতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিদেশে প্রয়োজন দক্ষ শ্রমিক। কেবল বিদেশে নয় দেশেও দক্ষ শ্রমিকের বিকল্প নেই। প্রতিটি অফিস চায় দক্ষ শ্রমিক ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। অভিজ্ঞ মানুষ ছাড়া কোনো কোম্পানী দাঁড়াতে পারে না। এ জন্যই বিদেশেও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন অনেক বেশি। কিন্তু সরকারের প্রশিক্ষণ বিষয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও একশ্রেণির অসাধু মানব পাচারকারী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে দেশের সহজসরল মানুষদের। বাংলাদেশ যেনো এ কলঙ্ক থেকে বেরই হতে পারছে না। বিশ্বের যেসব দেশে এ জঘন্য অপরাধের ঘটনা বেশি ঘটে বাংলাদেশের স্থান শীর্ষ পর্যায়ে।

বর্তমানে মানব পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্দোচীনের দেশ কম্বোডিয়া। ভুয়া কোম্পানি খুলে সে দেশে চাকরি দেওয়ার নামে পাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের। তারপর পাচারকৃতদের একাংশকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের আর্ত ধ্বনি নানা পদ্ধতিতে স্বজনদের শোনানো হচ্ছে। পাচারকারী দলের সহযোগীরা দেশে থেকেই স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে। ভুক্তভোগীর থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসে এ বিষয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে বিদেশে বিপন্ন বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ানো দূতাবাসগুলোর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকার শ্রাদ্ধ করে জমিদার সুলভ জীবনযাপনই যেন তাদের কর্তব্যের অন্তর্গত। কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি মানব পাচারের অপতৎপরতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মানব পাচারের দায়ে সম্প্রতি এক বাংলাদেশিকে সাত বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৮০ জনকে পাচার করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এ শাস্তির পরও বন্ধ হয়নি পাচারের ঘটনা। পাচারকারী দলের বাংলাদেশি সদস্যরা কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের কোনো প্রতারককে সঙ্গে নিয়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। সে প্রতিষ্ঠানের নামে ৪০/৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়া হয়। মানব পাচার চক্রের সহযোগী ফকিরাপুলের একটি চক্র জাল ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে তাদের কম্বোডিয়া পাঠায়।

মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে চাকরির লোভ দেখিয়ে কম্বোডিয়া পাঠানোর আগে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। তারপর তাদের একাংশকে কম্বোডিয়ায় পণবন্দী করে স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। কম্বোডিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো বহুজাতিক কোম্পানির চুক্তিবদ্ধ থাকা বাধ্যতামূলক। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নিতে হয়। সে দেশে দক্ষ শ্রমিকদের অভারটাইমসহ ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার আয়ের সুযোগ রয়েছে। পাচারকারীরা লোভনীয় টোপ দেখিয়ে করছে শিকার ধরার কাজ।

আমরা মনে করি, মানব পাচার বন্ধে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত সবার শিকড় উৎপাটনের উদ্যোগ নেওয়া হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। এটি সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com