২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা সফর, ১৪৪২ হিজরী

মালিবাগের শহীদ ও জোট সরকারের প্রতারণার গল্প

মালিবাগের শহীদ ও জোট সরকারের প্রতারণার গল্প

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : ইসলামী আন্দোলন এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা কর্মিগণ যে দাবীগুলো করে যাচ্ছেন, যথার্থ। কেউ বলার সাহস রাখেন না। বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না।

যুব আন্দোলনের নেছার ভাই যেটা বলেছেন, ধ্রুব সত্য কথা। কিন্তু আমরা কেউ বলার সাহস রাখিনা। অথচ নিরীহ মাদ্রাসার ছাত্রদের গুলি করে মেরে ফেলা হল, যারা ছাত্র আন্দোলনের কর্মি ছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে কোন উচ্চ- বাচ্চ নেই। একদম নীরব ভুমিকায় ছিল সবাই।

আজো গা শিউরে ওঠে। ২০০২ সনে মালিবাগ বায়তুল আজীম শহিদী মসজিদ রক্ষার্থে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মিরা যেভাবে জীবন বিলিয়ে দিল, সে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হল। কোন প্রতিকার হল না।

চারদলীয় ইসলামী জোট ক্ষমতায়। আমাদের কিছু ওলামায়ে কেরাম তখন সরকারের সাথে। কিন্তু ওনারা সন্তোষজনক কিছু করলেন না। বরং সবকিছু গোপন রাখার চেষ্টা করলেন। রহস্যজনক বিষয় ছিল সেটা। সেসময়ে মানুষ হতবাক হয়ে গিয়েছিল লালবাগ কেন্দ্রিক নেতাদের আচরণে।

অথচ ইসলামের নামে, ইসলামী সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা। বিবাড়ীয়ার শহীদদের রক্ত পুঁজি করে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন ওনারা। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসে একদম চেহারা পাল্টে গেল। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছিল। কোন ওয়াদা তারা পালন করেনি।

আর আমাদের ইসলামী দলের এমপি সাহেবগণ মন্ত্রীত্ব পাবার আশায় সব কিছু জলান্জলি দিয়েছিলেন। একদম কপটতায় ছিল যেন ভরপুর। কোন নীতি আদর্শ বাকি ছিল না।

চারদলীয় জোট সরকার যদি তখন ক্ষমতায় না থেকে অন্য কোন দল ক্ষমতায় থাকত, তাহলে কিন্তু কেয়ামত ঘটে যেত। ওসব নেতাদের হুঙ্কারে সব এলোমেলো হত। কিন্তু সেসময়ের ক্ষমতাসীন ইসলামিষ্টদের কাছে দেশের মানুষ কতটুকু নিরাপদ ছিল? বিলকুল না। তার বড় প্রমান মালিবাগ হত্যাকান্ড। তাজা মানুষগুলো শহীদ হলো, কিন্তু ওনারা আন্দোলনকে ডিপফ্রিজে বন্দী করলেন।এবং এদেশের সাধারণ জনতাকে বোকা বানালেন তারা। সেটা নিয়ে কোন কথা বললেন না।
আচ্ছা, কেন কথা বলেন নি? ওনারা রাজপথের লড়াকু ছিলেন। তাহলে কি ক্ষমতার স্বাদ তাদের হক কথা বলা থেকে নিবৃত রেখেছিল? একটা বড় আফসোসের বিষয়। ওনাদের থেকে কেউ এটা আশা করেছিল না।

ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যত্ত সব মিথ্যার ফুলঝুরি। ক্ষমতায় গেলে আর মনে করেনি ইসলামের কথা। সম্পুর্ণ পৈচাশিক কায়দায় তারা দেশের মাঝে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।

হাফেজ্জী হুজুরের পরে লালবাগ কেন্দ্রিক কিছু এলোমেলো, অনৈতিক কাজের জন্ম হয়েছে মাঝে মাঝে। এখনও সে সিলসিলা জারী আছে। বিগত হেফাজতের সময় আপনারা দেখেছেন লালবাগের নেতাদের কান্ড।বর্তমানেও সেই পথে এখনো আছে ওখানকার কিছু লোক।

সেই মালিবাগ ট্রাজেডীর বিষয়গুলো এখন ইসলামী আন্দোলন, যুব আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন সহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিরা তুলে ধরছেন।আর এটা তুলে ধরারই কথা।কেননা, সেখানে তো ছাত্র আন্দোলনের কর্মি নিহত হয়েছে।সে হিসেবে যুব আন্দোলনের নেতা, নেছার সাহেব যেটা তুলে ধরেছেন,এটা সময়ের সাহসী কথন। তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আর যারা এখন নেছার সাহেবকে চেপে ধরার চেষ্টা করছেন, একটা ব্যর্থ চেষ্টা। কেননা , কোন জওয়াব নেই। সত্য কখনো গোপন থাকেনা। ওটা প্রকাশ পাবেই। সেদিন যারা মালিবাগ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবী না তুলে বরং ধামাচাপা দিতে চেয়েছে, বড় ন্যাক্কারজনক ছিল। তারা অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। আল্লাহ সবাইকে বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com