১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৯শে মুহাররম, ১৪৪২ হিজরী

মাল্টা চাষে হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাল্টা চাষে হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে। সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকেরা। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় রসালো মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দুই কৃষক জাকির হোসেন ও আবু হোসেন। জৈব সার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত মাল্টার বাম্পার ফলন ঘটিয়ে এলাকায় সকলের নজর কেড়েছেন। কৃষক জাকির ও কৃষক আবুর মাল্টা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাল্টার কদর বাড়ছে। তাদের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখে যায়, মালটা বাগানে সবুজের হাতছানি। মাল্টার ভারে নুয়ে পড়েছে গাছগুলো। ঝুলে আছে অসংখ্য মাল্টা। খুলনা ও ঢাকা থেকে পাইকার এসে মাল্টা ক্রয় করছেন। মাল্টার পাশাপাশি তাদের খামারে কলা, আদা, হলুদ, করল্লা ইত্যাদি মৌসুমী সবজি থাকলেও এ দুই কৃষক বেশি লাভবান হচ্ছেন এবার মাল্টা চাষে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ী ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে মো. জাকির হোসেন ১০ একর জমির ৩০০ বারি-১ জাতের মাল্টা চারা রোপণ করে প্রথমে প্রদর্শনী বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ৭০০ মাল্টা গাছ বেড়ে উঠছে। এ মাল্টা গাছ এখন পরিপূর্ণ হয়ে ফলবান। মাল্টা বাগানের ভেতর পতিত জমি নিবিড় ব্যবহার করে আদা, হলুদ, পুঁইশাক, করল্লা, ঢেঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে বাড়তি অর্থ মিলছে।

জাকির হোসেন জানান, মাল্টা চাষে এখন লাভ বেশি। বেকার অবস্থায় বিদেশ যাওয়ার জন্য মনোনিবেশ করেছিলাম কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ার কারণে বিদেশযাত্রা বাতিল হয় আমার। প্রথমে কলা চাষ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বন্যার কারণে চরমভাবে লোকসানের সম্মুখীন হই। পরবর্তীতে এলাকার একজন শিক্ষকের পরামর্শে আমি মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হই। এর মধ্যে ১০০ মণ মাল্টা ঢাকায় বিক্রি করেছি। বাগানের মাল্টা স্বাদে খুব মিষ্টি ও আকারে বড় হওয়ায় আবারো ঢাকা থেকে ক্রেতা এসেছে বাগানের সব মাল্টার অগ্রিম বায়না করতে।

তিনি আরো জানান, বাগান তৈরিতে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রথম দফায় বিক্রি হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মাল্টা। আরো ৪ শ মণ মাল্টা বিক্রি করা যাবে, যার বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অপরদিকে মাল্টা চাষি জাকিরের সফলতা দেখে চাচাতো ভাই আবু হোসেন ২ একর জমিতে তার মাল্টা বাগান শুরু করেন। তার বাগানে বারি মাণ্টা-১ প্রজাতির ৩০০ গাছ রোপণ করেন। তার গাছেও প্রচুর পরিমাণে মাল্টা ধরেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম নবীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন মাল্টা বাগান পরিদর্শনে যান। বাগানে ঝুলে থাকা মাল্টা দেখে অভিভূত হন।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com