মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির প্রতিহিংসামূলক প্রতিবিপ্লব

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির প্রতিহিংসামূলক প্রতিবিপ্লব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছিলেন। বিধ্বস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন করেছিলেন। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর চালু করেছিলেন। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ অর্জন করেছিলো।

তিনি স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ, শিক্ষকদের স্থয়ী নিয়োগ, কল-কারখানা চালু এবং অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করতে তিনি যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিসহ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তাঁকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। পনের আগস্টের হত্যাকা- কোনো ব্যক্তি বা পারিবারকেন্দ্রিক হত্যাকা- ছিল না। এটি ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিহিংসামূলক প্রতিবিপ্লব। এ হত্যাকা-ের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘লুস কনফেডারেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের পরবর্তী আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় চার নেতা হত্যা, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচাররোধ, সংবিধান থেকে জাতীয় চার মূলনীতি ছেঁটে ফেলার মত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারাবাহিক কর্মকা- এর প্রমাণ করে।

সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-, জাতীয় চার নেতা হত্যাকা-ের পরও একাত্তরের প্রেতাত্মারা, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, খুনীরা ও খুনীদের উত্তরসূরীরা থেমে নেই। তারা বিভিন্ন সময়ে বার বার দানবীয় শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। এখনও তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিগত ২০১৪ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে এরা দানবীয় শক্তিকে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। এই অশুভ শক্তি শেখ হাসিনার প্রাননাশের জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের ওই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন শাহাদাত বরণ করেন এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এর আগে পরেও শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার চক্রান্ত করা হয়। এ অশুভ শক্তির চক্রান্ত থেমে নেই।

থেমে নেই তাদের অশুভ তৎপরতা। আজ তাদের ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ অশুভ শক্তির তৎপরতা বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজ সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে ভাবতে হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চাৎপদ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে কিভাবে অবিরাম কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। তার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গৃহিত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির ফলে জাতির মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। গোটা বিশ^ এখন অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদাশালী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকার পাশাপাশি অর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ^ব্যাংকের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন।

আজ দেশের আড়াই কোটি তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চলমান চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের স্বরূপ বুঝতে পারে না। তাদেরও বুঝতে হবে যে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে ও তারা পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশকে নিয়ে গিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে নিয়ে যায় সেই শঙ্কা বা হুমকি থেকে আমরা কি এখন মুক্ত? যারা এখনো ’৭১-এর বছরকে গ-গোলের বছর বলে স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধ মানে না, জাতির পিতাকে স্বীকার করে না তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশে কি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক। তাই যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। এই বাংলাদেশের মাটিতে থেকে এই দেশকে যারা অস্বীকার করে, তাদের এদেশে কোনো স্থান থাকতে পারে না। এই দেশের মাটিতে থেকে রাজনীতি করার প্রথম শর্ত হচ্ছে- বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধকে বুকের ভেতর ধারণ করতে হবে। অথচ এখনো দেশে অনেকে রাজনীতি করছেন যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানেন না। অসম্মান করে চলেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধকে। এই চিহ্নিত অশুভ মহলকে বয়কট করা এখন সময়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আন্দোলন ও গণতন্ত্রের নামে ২০১৪ সালে পেট্রোল বোমা মেরে যারা একাত্তরের মত গণহত্যা চালিয়েছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ধরণের কর্মকা- আবারও চালানোর প্রয়াস নিলে জনগণ তাদের এবার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে।

শোকাবহ এ আগস্টে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী সকলের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, দেশের চলমান উন্নয়ন, প্রগতি, অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তার নেতৃত্বে দেশবাসীকে মহান মুক্তিুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য। আর এর মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার অপরিসীম ভালবাসার প্রতিদান দিতে পারবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com