মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:২০ অপরাহ্ন

‘মুহররম’ মুসলমানদের বিজয়ের এবং শোকের মাস : আল্লামা মাসঊদ

‘মুহররম’ মুসলমানদের বিজয়ের এবং শোকের মাস : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় রিপোর্ট : মুহররম মুসলানদের বিজয়ের এবং শোকের মাস বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, মুসলমানদের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মাস মুহররম। হজরত আদম আ.-এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ এবং হজরত নুহ আ.-এর নৌযানের যাত্রা আরম্ভ এবং বন্যা-প্লাবনের সমাপ্তি সবকিছুই ঘটেছিল এমাসে। মুহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার দিনে আল্লাহতায়ালা তার নবী মুসা আ. ও তার অনুসারী ইমানদারদের ফেরাউনের জুলুম থেকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে তার বাহিনীসহ সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরেছেন।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, মুহররম মাসের প্রথম তারিখে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা. শাহাদত বরণ এবং এমাসের ১০ তারিখের আশুরার দিনে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নবীর দৌহিত্র হজরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত এমাসকে বিশ্ববাসীর কাছে সর্বাধিক স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

মহররমের ও আশুরার গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, ইসলামে চারটি মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম হলো মহররম মাস আর মহররম মাসের দশম দিবস যা আশুরা হিসেবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।

আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, নবীজী সা. মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। কিন্তু হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। প্রিয় নবী সা. তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলেন। জানতে পারলেন—এদিনে মুসা আ. সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।

নবীজি বললেন, মুসা আ.-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ মহররম অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন। কারণ, ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যেন সাদৃশ্য না হয়।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, আসুন, আশুরার দিনে সব ধরনের কুসংস্কার ও গর্হিত রুসুম-রেওয়াজ থেকে বেঁচে কুরআন্ সুন্নাহ মোতাবেক চলে তওবা- ইস্তেগফার, নফল রোযা এবং অন্যান্য নেক আমল করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com