৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

যতদিন বেঁচে আছি খাদেম হয়ে দেওবন্দের খেদমতেই থাকবো ইনশাআল্লাহ

যতদিন বেঁচে আছি খাদেম হয়ে দেওবন্দের খেদমতেই থাকবো ইনশাআল্লাহ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিস নিযুক্ত হওয়ার পর উপমহাদেশের শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্ব জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি জানিশিনে শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকি খাদেম হয়েই দেওবন্দের খেদমত করতেই থাকবো। একজন খাদেম হয়েই আমি দারুল উলূম দেওবন্দের খেদমতে নিযুক্ত থাকতে চাই।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৪অক্টোবর) দারুল উলূম দেওবন্দে অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার তিন দিনের সভার শেষ দিনে তাঁকে সদরুল মুদাররিস পদে নিয়োগ দেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাইখুল হাদীস হয়েছেন দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ও নির্বাহী মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মাদ ক্বারী উসমান মানসুরপুরী৷

মাদরাসা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে আসাম প্রশাসনের বিরোধিতা করে সায়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, যারা তাবলীগ জামায়াতকে নিশানা বানিয়েছে তাদেরই সিদ্ধান্ত এটি। তাদের উদ্দেশ্যই হলো মুসলমানদেরকে ধর্মীয় দিক থেকে হতাশায় ফেলে দেয়া। ভারতে মুসলমানদের চলা কঠিন-এটাও তারা বুঝাতে চায়।

গতকাল সায়্যিদ আরশাদ মাদানী নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

তিনি আসামেন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদরাসা বন্ধের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, মুসলিম জাতি আজ থেকে নয় বরং হাজার বছর আগে থেকে এখানে বসবাস করে আসছে। মুসলমান নিজের দ্বীনের ক্ষেত্রে কারোই মুখাপেক্ষিি নয়। মুসলমান নিজের কদমেই দণ্ডায়মান। দেশে হাজার হাজার স্কুল চলছে। এ মুহূর্তে ভারতে মুসলমানগণ একটা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, মুসলমান নিজের ধর্মের উপর অটল ও অবিচল আছে। জীবন দিয়ে নিজেদের মাদরাসা ও মসজিদ তারা জিন্দা রাখবে।

সায়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, দু চারটা মাদরাসায় সরকারি সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ায় ঘাবরালে হবে না। বরং এসব মাদরাসায় আরও বেশি করে সহযোগিতা বাড়িয়ে দিতে হবে। নিজের দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্যই সংরক্ষণের জন্যই এই মাদরাসাগুলোতে সাহায্য দিতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সায়্যিদ আরশাদ মাদানী মাদানী বলেন, সরকারের এ নীতি একটা নির্বাচনী ট্রামকার্ডও হতে পারে। যখনই কোনো নির্বাচন সামনে আসে তখন এমন অনেক ইস্যু তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, হিন্দুস্তানের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ও মসজিদ সমগ্র দুনিয়ায় ইসলাম হেফাজতের বড় মাধ্যম।

তিনি বলেন, সরকার তুচ্ছ কারণে এই দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু এটা কিছুতেই হবে না ইনশাআল্লাহ। মুসলমানগণ জীবন দিয়ে মাদরাসা জিন্দা রাখবে।

মজলিশে শূরার পক্ষ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিস নিযুক্ত হওয়ার অনুভূতি জানতে জানতে চাইলে সায়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, আমি আগে থেকেই দারুল উলূম দেওবন্দের খাদেম ছিলাম এবং যতদিন থাকবো খেদমত করেই যাবো ইনশাআল্লাহ।

জমিয়তে উলামা হিন্দের দুই গ্রুপ নিয়ে সায়্যিদ আরশাদ মাদানী আপসে কোনো মতবিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন।
দারুল উলূম দেওবন্দ কখন খোলা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সায়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, এখনও পর্যন্ত ভারতের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। যখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে তখনই দারুল উলূম দেওবন্দও খোলা হবে।

অনুবাদ : মাসউদুল কাদির
সূত্র : ডেইলি সাফাহাত, দিল্লী

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com