২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

যমুনাপাড়ে ভাঙন আতঙ্ক, নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ

যমুনাপাড়ে ভাঙন আতঙ্ক, নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি স্থানে ইতোমধ্যেই তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের কবলে পড়ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাগানসহ নানা স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে তাই যমুনাপাড়ের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রতিবছর নদী ভাঙন আর বন্যার সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সঞ্চয় হাতে থাকলেও এবার করোনার কারণে তাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ফলে বিপদ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের ভাঙনে কাজীপুর উপজেলায় শহীদ এম মনসুর আলী ইকো পার্কের কাছে ঢেকুরিয়া পয়েন্টে শহর রক্ষা বাঁধের পাশে ৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। এতে বেশ কিছু পরিবার ভাঙন আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে নেয়।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার জানান, গত ২৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় বাঁধে ধস দেখা দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার ধসে যায়। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নাটুয়ারপাড়া হাট, স্কুল-কলেজসহ পুরো এলাকা। গত মাসেও ওই বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার নদীতে ধসে গেছে।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘ঢেকুরিয়া নদী তীর রক্ষা বাঁধের নিম্নাংশ ধস দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী বেশ কিছু পরিবার আতঙ্কে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিয়েছে। ইতোমধ্যে সেই ধস রোধ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’

অপরদিকে, চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর, বাঘুটিয়া ও খাস পুখুরিয়া ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। ইতোমধ্যে ওই তিনটি ইউনিয়নের চার শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। চাঁদপুর ও বোয়ালকান্দি গ্রামের প্রায় ২৫/৩০টি বাড়ি-ঘর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলেও ভাঙন চলছে।

চৌহালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “ইতোমধ্যে চাঁদপুর গ্রামের ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। বোয়ালকান্দি গ্রামের বেশ কটি বাড়ি-ঘর ও একটি মসজিদ যমুনায় বিলীন হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের একটি টিনসেড ঘরও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয় ভবন কাম আশ্রয় কেন্দ্রসহ আরও দু’টি ভবন রয়েছে নদী থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে।”
শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই কৈজুরী থেকে ব্রাহ্মণগ্রাম পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে ঢেকুরিয়া ও নাটুয়াপাড়ায় বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। তবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ধস ঠেকানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে কৈজুরী প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার নদী তীর অরক্ষিত থাকায় সেখানে ভাঙন রয়েছে। এছাড়া কাজিপুরে পাটাগ্রাম এলাকাতেও অরক্ষিত রয়েছে ৫ কিলোমিটার।’ এই দুটি তীর রক্ষায় একহাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com