৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

যুদ্ধে জড়াল আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিতর্কিত ও জাতিগতভাবে আর্মেনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে মধ্য এশিয়ার দুই বৈরী প্রতিবেশী আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় দেশ একে অপরকে দায়ী করছে এ সংঘাতের জন্য। সংঘাতের কারণে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এরইমধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে আজারবাইজান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে এ যুদ্ধ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

আর্মেনিয়ার অভিযোগ, প্রতিবেশী আজারবাইজান নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত। আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী নাগরনো-কারাবাখসহ প্রধান শহর স্টেপেনকোর্ট নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রবিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে হামলা চালায় আজারবাইজান। এর জবাবে আর্মেনিয়ার বাহিনী প্রতিপক্ষের দুটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

তবে আজারবাইজান এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা আর্মেনিয়ার হামলার জবাব দিতেই ওই হামলা চালিয়েছিল।

যে অঞ্চলটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঝামেলা সেই নাগোর্নো-কারাবাখ একটি আর্মেনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। জাতিগতভাবে আর্মেনীয়রাই এটি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আজারবাইজান।

১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে স্বাধীন হয় রাষ্ট্রদুটি। এরপর থেকেই নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দ্বন্দ্ব দুই দেশের। নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে নাগার্নো-কারাবাখ। স্বাধীনতা ঘোষণার ২০ বছর পূর্তিতে অঞ্চলটির সেনাবাহিনী কুচকাওয়াজও করেছে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে একে আজারবাইজানের অংশ ধরা হয়। তবে এ অঞ্চলে আজারবাইজানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অঞ্চলটি পরিচালনা করে স্বাধীন নাগার্নো-কারাবাখ কর্তৃপক্ষ।গত জুলাই মাসেও দুই দেশের মধ্যে লড়াইয়ের কারণে ১৭ জন নিহত হয়।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে জানানো হয়, রোববার সকালে (২৬ সেপ্টেম্বর) নাগোর্নো-কারাবাখের আর্মেনীয় জাতিগোষ্ঠির ওপর আজারবাইজান হামলা চালায়। হামলা চালানো হয় ওই অঞ্চলের রাজধানী স্টেপনাকার্টে। এসময় আজারবাইজানের দুটি হেলিকপ্টার, তিনটি ড্রোন ও তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করে আর্মেনিয়া।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আজারবাইজানকে অবশ্যই উচিৎ শিক্ষা দেয়া হবে। এর জন্য দায়ী থাকবে আজারবাইজানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই।

এদিকে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর নাগার্নো-কারাবাখের অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ সেখানে সামরিক আইন জারি করেছে। সব সক্ষম পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে ডাকা হয়েছে। অপরদিকে, আজারবাইজানও আর্মেনীয় হামলা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।

আর্মেনিয়া আজারবাইজানে হামলা চালিয়েছে জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিন এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি যুদ্ধবিরতি ভাঙার জন্য আর্মেনিয়াকে দায়ি করেন।

এদিকে নাগার্নো-কারাবাখের নেতা আরিক হারুতিনইয়ান দাবি করেছেন, তুরস্কের ‘ভাড়াটে’ সেনারা আজারবাইজানে চলে এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, তুরস্কের সেনারা এখন আজারবাইজানে চলে এসেছে।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com