১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৯শে মুহাররম, ১৪৪২ হিজরী

রপ্তানি করে চামড়া বাজারের ধস ঠেকাতে হবে

রপ্তানি করে চামড়া বাজারের ধস ঠেকাতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভুলে গেলে চলবে না গেলবারের মতো এবারও চামড়া রপ্তানির বিষয়ে ভালো উদ্যোগ ছিলো না বলেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প চামড়া নিয়ে বিপাকে দেশের ব্যবসায়ীরা। এবারও চামড়ার বাজারে সুসংবাদ ছিলো না এবং নেই। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চামড়ার সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই দামও ছিল অনেক কম। ট্যানারি, আড়তদার ও ফড়িয়াদের টানাপড়েনে গত বছর কোরবানির মৌসুমে পথে পথে পচতে বসেছিল কাঁচা চামড়া।

এবার কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা আর রপ্তানিতে মন্দার মধ্যে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের অভিযান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গতবারের বিরূপ অভিজ্ঞতায় এবার মহামারির মধ্যে চাহিদা কম থাকবে ধরে নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিল ফড়িয়ারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের কয়েক শ কোটি টাকা পাওনা বকেয়া পড়ে থাকা এবং মহামারিকালে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া চামড়ার দরপতনে ভূমিকা রেখেছে; যদিও চাহিদা ও সরবরাহ ঠিক রাখতে আগে থেকেই কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানিতে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার নির্ধারিত দাম বেঁধে দিলেও বাস্তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর চেয়ে অনেক কম দামেই বিকিকিনি হয়েছে বলে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে। দরপতনের সুযোগে দালাল, ফড়িয়া, ব্যাপারী, আড়তদার, এমনকি এই খাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা ট্যানারিগুলোর মুনাফা বাড়ার পথ উন্মুক্ত হলেও কেউ দায় নিতে রাজি নয়। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত বছর আড়তদাররা বকেয়া না পাওয়া পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলে দেখা দেয় সংকট। পরে সরকারের মধ্যস্থতায় সেই জট খোলে। এই বছর করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় ট্যানারিগুলো থেকে আড়তদারদের পাওনা আদায়ে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ পুরোটাই গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেক মাদরাসা-এতিমখানায় মানুষ চামড়া দান করে। প্রতিবছর এতিমখানা, হিফজখানা ও কওমি মাদরাসার অর্থের বড় একটা জোগান আসে কোরবানির চামড়া বিক্রি থেকে। সেসব চামড়াও বিক্রি হচ্ছে না।

দেশে বার্ষিক চামড়ার জোগানের অর্ধেকই আসে কোরবানির সময়। এ সময় চামড়া বেচাকেনায় এমন পরিস্থিতি কেন হলো, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অনেকের ধারণা, এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত সিন্ডিকেটবাজি। যদি তা-ই হয়, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। কাঁচা চামড়া কিংবা ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com