২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কী | রশীদ জামীল

রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কী | রশীদ জামীল

‘রাষ্ট্র’ কি ধর্ম পালন করে? রাষ্ট্রের উপর কি নামাজ-রোজা ফরজ? তাহলে রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কী! তাছাড়া দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান আছে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী আছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রধর্ম থাকা মানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মতান্ত্রিক অধিকার খাটো করা। রাষ্ট্র হবে ধর্ম নিরপেক্ষ।

রাষ্ট্র’ কি কথা বলে? সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে গিয়ে লেকচার দেয়? তাহলে রাষ্ট্রর আবার ভাষা কী? তাছাড়া দেশে মনিপুরি, চাকমা, মগ, মুরাং… কতো জাতি আছে। অন্যান্য উপজাতিও আছে- যারা বাংলায় কথা বলে না। রাষ্ট্রভাষা বাংলা মানে তাদের ভাষাতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন অবজ্ঞা করা। রাষ্ট্র হবে ভাষা নিরপেক্ষ।

‘রাষ্ট্র’ কি সুর করে গান গায়? তবলা-হারমোনিয়াম ধরতে পারে? তাহলে রাষ্ট্রের আবার সংগীত কী? তাছাড়া একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন কবির গীতকে রাষ্টগীত বানিয়ে রাখা মানে দেশের বাকিসব কবির সুরতান্ত্রিত অধিকারকে অপমান করা। রাষ্ট্র হবে গীত নিরপেক্ষ।

পশুপাখির জবান নেই। তারা কথা বলতে পারে না বলে তাদের প্রতি বৈষম্য দেখানো হবে—তাতো হয় না। কাক, কোয়েল, সারো, ময়না… আকাশ-ভরা কতো প্রজাতির পাখি। দোয়েলকে রাষ্ট্রীয় পাখি করে রাখা মানে বাকি সব পাখির পাখিতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা। রাষ্ট্র হবে পাখি নিরপেক্ষ।

মাছে ভাতে বাঙালি। পুঁটি, টেংরা, কৈ, রুই বোয়াল পাবদা… কতো প্রজাতির মাছ আছে গুনে শেষ করা যাবে না, অথচ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মাছের নাম ইলিশ। ইলিশকে রাষ্ট্রীয় মাছের মর্যাদা দেওয়া মানে বাকি সব মাছের মাছাধিকার ক্ষুণ্ন করা। রাষ্ট্র হবে মাছ নিরপেক্ষ।

বাকি সব, রাষ্ট্রীয় ফুলমূল, খেলাধুলা, গাছ-গাছালি, জীব-জন্তু… সবগুলোকে নিয়ে এভাবে হোমওয়ার্ক করা যাবে, শুধু কাঁঠাল ছাড়া। কাঁঠাল আমাদের রাষ্ট্রীয় ফল-এটা ঠিকাছে। বাংলাদেশের সরকারি নীতিমালায় সবচে ইফেক্টিভ নীতি হলো, ‘জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া’। সুতরাং কাঁঠাল থাকুক।

শোকাক্রান্ত অশোক বান্ধব! চলেন স্লোগান ধরি…

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com