মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

রুখতে হবে জঙ্গিবাদের ছোবল

ফের আক্রান্ত পুলিশ

রুখতে হবে জঙ্গিবাদের ছোবল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘুরে ফিরে জঙ্গিদের মরণ ছোবল থাবা মেরে চলেছে। এই অশুভ অপতৎপরতাকে রুখতে হবে। দেশকে বাঁচানোর জন্যই ভিনদেশি চিন্তার এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সব শ্রেণিদের মানুষকেই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। আবারও পুলিশের উপর আক্রমণের এই চেষ্টা বড়ধরনের নাশকতার টেস্ট কেসও হতে পারে। এটা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বললেন। গণমাধ্যমে প্রকশিত একটি খবরেরর শিরোনাম ছিলো, ‘এটা জঙ্গিদের টেস্ট কেস হতে পারে’।

গত শনিবার রাতে রাজধানীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের ওপর এই বোমা হামলা চালানো হয়। ঘটনায় এক এএসআই এবং সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দায় স্বীকারের খবর এসেছে। জঙ্গি কর্মকা-ের ওপর নজর রাখা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ বলেছে, বাংলাদেশের রাজধানীতে এই বোমা হামলা আইএস চালিয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে, যদিও শনিবারের ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করছে না পুলিশ সদর দপ্তর।

বাংলাদেশে আইএস নেই, সরকারপক্ষ থেকে বরাবরই এমন দাবি করে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি এটিও দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের যেকোনো বোমা হামলার পর আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়। আগেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোটখাটো কয়েকটি হামলার ঘটনার পর আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এসেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এসব ঘটনায় আইএসের জড়িত থাকার কথা উড়িয়ে দিলেও কারা এগুলো ঘটিয়েছে, সেটি বের করতে পারেনি।

দেশে আইএসের অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের আদর্শের সঙ্গে সমমনা অনেক গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠী যে ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, তা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা, দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়ার খবর আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জঙ্গি-সন্ত্রাস বিস্তারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের দাবি রাখে।

ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বরাবর স্পষ্ট করেই বলে আসছেন, আইএসকেন্দ্রিক হুমকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর সক্ষমতা অর্জন করেছে। হলি আর্টিজানে হামলা এশিয়ায় আইএসের তৎপরতার প্রাথমিক ইঙ্গিত বলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা। ছোট ছোট বোমা হামলা ও ঘটনার দায় স্বীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আইএসকে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা হচ্ছে কি না সেটিও ভেবে দেখা দরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরো তৎপর হবে। বাংলাদেশকে অপশক্তির চারণভূমি বানানোর অপচেষ্টাকে রুখতে সবধরনের চেষ্টা করা হবে বলেই আমরা মনে করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com