২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রোজায় গরুর মাংসের কেজি ৪৭৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে রোজার মাসে রাজধানীতে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে সিটি করপোরেশন বলেছে, কেউ অতিরিক্ত দাম রাখলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ঠিক হয়েছে ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মেয়রের এক মতবিনিময় সভায় এই দর নির্ধারণ করা হয়।

গতবছর রোজায় গরুর মাংস ৪২০, মহিষ ৪০০, খাসি ৫৭০, ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৪৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রোজার মাসে জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ২৬ রোজা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় এ দামে মাংস বিক্রি করতে হবে। সভায় সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সবাইকে দাম মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছি। আমাদের একটি মনিটর টিম সবসময় কাজ করবে। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

শুধু কাঁচাবাজারের মাংসের দোকান নয়, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ মাংস বিক্রি করে এমন সব দোকানের জন্যই এ দাম প্রযোজ্য হবে বলে জানান মেয়র। মাংসের এই দাম রোজার পরও ঠিক রাখার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম মতবিনিময় সভায় বলেন, রোজার পর বড়জোর ৫-১০ টাকা এদিক-সেদিক হতে পারে। তিনি বলেন, রোজায় মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ধর্মঘট কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন তারা। ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখান থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আমরা যে ধর্মঘট কর্মসূচি দেয়ার কথা বলেছিলাম, তা প্রত্যাহার করে নিলাম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহউদ্দিন, মহানগর এলাকার মাংস ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় রবিউল অভিযোগ করেন, গাবতলী গরুর হাটের ইজারাদারদের অত্যাচারের কারণে ব্যবসা করতে পারছেন না তারা। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আসার পর থেকে সেখানে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তার। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ঢাকার মানুষকে ৩০০ টাকা কেজি দলে মাংস খাওয়ানো যাবে বলে দাবি করেন রবিউল। ব্যবসায়ীরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার কামরাঙ্গীরচর, মাতুয়াইল, হাজারীবাগ এলাকায় একটি করে গরুর হাট করার পরামর্শ দেন। এছাড়া কাপ্তানবাজার, হাজারীবাগ জবাইখানার আধুনিকায়নের দাবি জানান। দক্ষিণের মেয়র খোকন বলেন, তার এলাকায় একটি স্থায়ী গরুর হাট করার পরিকল্পনা তার আছে। গাবতলীতে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির অফিসের তালা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা নিতেও মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com