১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রোহিঙ্গাদের টিকা দানে নজির সৃষ্টি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কলেরাসহ বিভিন্ন টিকা প্রদানে অনন্য সফলতার নজির সৃষ্টি করেছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১০ অক্টোবর শিশুসহ সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কলেরার টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহে প্রতিদিন শিশুসহ এক লাখেরও বেশি বিভিন্ন বয়সী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কলেরার টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী প্রত্যেক শিশুকে আগে থেকেই হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিও টিকা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, সাড়ে ছয় লাখ শিশুকে কলেরার টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১০-১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে কলেরার টিকা প্রদান করা হয়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, অন্যান্য দাতাসংস্থা ও এনজিওদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক শিশুকে কলেরার টিকা দেয়ার নজির আর কোথাও নেই। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে দ্রুত কলেরা ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য মহাপরিচালক গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইমুনাইজেশন (জিএভিআই) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, আবেদন জানানোর ৩২ ঘণ্টার মধ্যে জিএভিআই ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রদান করে যা দিয়ে ৯ লাখ ডোজ টিকা কেনা হয়। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন গ্রুপও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ভ্যাকসিন প্রদানের অনুমোদন দেয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন গ্রুপের গ্লোবাল ভ্যাকসিন স্টক পাইল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকে ৯ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনই বাংলাদেশকে দেয়া হয়।

দ্রুত কলেরার টিকা বরাদ্দ পাওয়া, বিদেশ থেকে চার্টার বিমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে আসা, একই দিন ফ্রিজার ভ্যানে কক্সাবাজারে পরিবহন ও বিশেষ ব্যবস্থায় কোল্ড চেইন মেনে সংরক্ষণ করে ১২০ টিমের সহ¯্রাধিক টিকা প্রদানকারীকে নিয়োগ প্রশিক্ষণ টিকাদান, বিশাল অনুপরিকল্পনা প্রণয়ন ও চার স্তর বিশিষ্ট সুপারভিশন মনিটরিং এর মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে টিকাদান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতারই সাফল্যগাঁথা । আশ্রয়কেন্দ্রে অন্য দেশের বাস্তচ্যুত এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বল্প সময়ে কলেরার টিকাদানের নজির আর একটিও নেই বলে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক উল্লেখ করেন।

আশ্রিত শরণার্থীদের তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সরকারি ২৫টি, সেনাবাহিনীর ১০টি ও বেসরকারি ৩৯টিসহ মোট ৭৪টি স্থায়ী হেলথ সেন্টারে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ৪৩টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম, ২১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ২৩১টি টিকা প্রদান দল কাজ করছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কলেরার টিকা ছাড়াও এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৯ জন শিশুকে এমআর (মিজেলস-রুবেলা), পাঁচ বছরের কম বয়সী ৭২ হাজার ৩৩৪ জনকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন, ৭২হাজার ৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ টিকা খাওয়ানো হয়। এ সময়ে ৩১ হাজার ২৪ জন ডায়রিয়া, ৪৬ হাজার ৬১৭ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ৫ হাজার ৯০৯ জন আঘাতপ্রাপ্ত ও ২০ হাজার ২২২ জন চর্ম রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com