২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

র‌্যাবপ্রধান বললেন, সিনহা খুনের তদন্তে সমন্বয়হীনতা নেই

র‌্যাবপ্রধান বললেন, সিনহা খুনের তদন্তে সমন্বয়হীনতা নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম ::  র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যামামলার তদন্ত ঘিরে বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা খুনের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে করা এই মামলার তদন্তকারী সংস্থার প্রধান আল মামুন সোমবার বিকালে হত্যাকা-স্থল পরিদর্শন শেষে একথা বলেন।

এদিকে, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত ‘অত্যন্ত গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের’ সঙ্গে করছে র‌্যাব। “তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যা যা করা প্রয়োজন করা হচ্ছে।”

এরই অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন জানিয়ে আল মামুন বলেন, “আমি নিজেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করছি। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের এই সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

“এই ঘটনা নিয়ে বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।”
গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা, যা ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সিনহা গুলি করতে উদ্যত হলে পাল্টা গুলি চালানো হয় বলে প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সরাসরি পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়ী করেন।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এর মধ্যে সিনহার বোন নয়জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যামামলা করলে আদালতের নির্দেশে র‌্যাব তার তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে আসামি পুলিশ সদস্যদের রিমান্ডে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে গত ৫ অগাস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ কক্সবাজার পরিদর্শন করে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছিলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উসকানি দিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সম্পর্কে যেন কেউ চিড় ধরাতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, আল মামুন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে বিকাল ৪টার দিকে বাহারছড়ার শামলাপুরে যান। ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে আসেন।

ওসি প্রদীপসহ তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ: কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিনড্রাইভে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির চার সদস্য গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌঁছান। পরে তারা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং উপপরিদর্শক নন্দদুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গত রোববার বিকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে গণশুনানি শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হন।
ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। সেখানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করা হয়।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) একজন প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধি।

জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হন।

ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে লিয়াকতকে প্রধান ও প্রদীপকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

মামলার নয় আসামির মধ্যে ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশে এই চারটি মামলায়ই এখন তদন্ত করছে র‌্যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com