২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে আল্লামা শফীর জানাজা সম্পন্ন

ছবি: আল ফাহীম

লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে আল্লামা শফীর জানাজা সম্পন্ন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। হাটহাজারীর মাদরাসা মাঠে আল্লামা শফীর বড় ছেলে মাওলানা আবু ইউসুফ এর ইমামতিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ২ টায় ঐতিহাসিক এ জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজার নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই হাটহাজারী মাদরাসা মাঠ, রাস্তা-ঘাট, পথ-প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ইতিহাসের এই মহা নায়ককে শেষবারের মতো দেখতে হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে লাখো উলামা, ত্বলাবা, মুসুল্লী, সালেকীন, মুহিব্বীনদের ঢল নামে।

মাদ্রাসার ভেতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভীড়ের কারণে মরদেহ বহনকারী কফিন মাদ্রাসা মাঠ থেকে স্থানীয় ডাকবাংলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই নামাজে জানাজা পরিচালিত হয়। এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় তার মরদেহবাহী গাড়িটি মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়। এসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাসের অন্যতম এক নাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এম এ সমমানের মর্যাদা আদায়ে তিনি ছিলেন প্রধান অগ্রপথিক। বিশ্বের আনাচে-কানাচে আল্লামা আহমদ শফীর ছাত্র, শিষ্য, মুরিদ, ভক্ত ও অনুসারী রয়েছে। আল্লামা শফী পাঁচ সন্তানের জনক। দুই ছেলে তিন মেয়ে। বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ, ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানি।

আল্লামা শফী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন।

লেখালেখিতেও রয়েছে তার রয়েছে বিশেষ অবদান। বাংলা ও উর্দু ভাষায় তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৫টি। তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে; বাংলা ভাষায়- হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা, ইসলাম ও রাজনীতি, সত্যের দিকে করুন আহ্বান, সুন্নাত ও বিদ-আতের সঠিক পরিচয় এবং উর্দু ভাষায়- ফয়জুল জারি (বুখারির ব্যাখ্যা), আল-বায়ানুল ফাসিল বাইয়ানুল হক ওয়াল বাতিল, ইসলাম ও ছিয়াছাত এবং ইজহারে হাকিকাত।

জীবনের শেষ দিনগুলোতেও আল্লামা আহমদ শফী করোনা সংকট, বিশ্ব পরিস্থিতি, ইসরাইল-আরব আমিরাত চুক্তিসহ নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত বিবৃতি ও দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে দেশ ও জাতি ও সরকারকে সতর্ক করে আসছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com