১১ই জুলাই, ২০২০ ইং , ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

লিচু খেলে কী শিশুদের মৃত্যু হয়!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লিচু একটি সুস্বাদু ফল এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন শিশুরা লিচু খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তখনই হিসেবটা অন্যরকম হয়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরেই লিচু খাওয়ার ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বাংলাদেশে এই মৃত্যুর হার খুব বেশি না হলেও ভারতে এই ফল খাওয়ার ফলে শিশু মৃত্যুর হার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

জানা গেছে, গত ১০ দিনে ভারতের উত্তরাঞ্চলে লিচু খেয়ে অন্তত ১০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিহার প্রদেশের মুজাফফরপুর জেলায় মৃত্যু হওয়া এসব শিশুর অধিকাংশের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এ ফল খেয়ে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে কমপক্ষে ১০০০ জন শিশু৷

শুধু ভারতেই নয়, লিচু খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশেও। ২০১২ সালে দিনাজপুরে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল লিচু খাওয়ার ফলে। ২০১৫ সালে একই কারণে একই জেলাতেই ১১ শিশুর মৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এই ফলটি শিশুর অভিভাবকদের কাছে ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু কেনই বা লিচু খাওয়ার কারণে শিশুরা মারা যাচ্ছে? অনেকেই ভেবে থাকেন লিচুতে বিষ প্রয়োগ করার কারণে অথবা, এতে কেমিক্যাল দেওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটে। অনেকেই আবার মনে করেন ভাইরাসবাহিত পোকা-মাকড় লিচুকে স্পর্শ করার কারণে লিচুর ভাইরাস শিশুদের আক্রান্ত করে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হাইপোগ্লাইসিনের নামের বিষাক্ত পদার্থ এবং লিচুতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাচ্চারা মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভোগে, কখনো খিচুনি ওঠে অথবা হাইপোগ্লাইসিনের কারণে তারা মারা যায়। এটা মূলত উত্তর ভারতের দিকেই হয়, যেখানে অভাবের কারণে বাচ্চারা একবেলা না খেয়ে থাকে, আর লিচু সেখানে খুবই সস্তা বলে রাতের খাবারের পরিবর্তে তারা লিচু খায়।

তবে বাংলাদেশের শিশুদেরও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রবলভাবে আছে। তাই শিশুর অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, রাতে বা দিনে খালি পেটে লিচু না খাওয়া ভালো। খেলেও যেন সঙ্গে অন্য খাবার খায়, যাতে ব্লাড সুগার লেভেল না কমে যায়। এছাড়া গ্রামের যেসব শিশুরা ম্যালনিউট্রশনে ভুগছে তাদেরকে খালি পেটে লিচু না খাওয়ানোরও কথা বলা হয়ে থাকে।

এদিকে, ভারতের ন্যাশনাল সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং আটলান্টায় অবস্থিত ভারতীয় অফিস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং প্রিভেনশনের যৌথ অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয় গ্রীস্মকালীন ফল লিচু এ অসুখের জন্য দায়ী। অপুষ্টিতে ভোগা কোনো শিশু খালি পেটে লিচু খেলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

২০১৫ সালে অন্য আরেক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মকর্তারা শিশুর বাবা-মা কে পরামর্শ দেন তারা যেন লিচু কম খাওয়ায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন শিশুদের অবশ্যই রাতের খাবার ঠিকমত খেতে হবে এবং লিচু থাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com