২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা সফর, ১৪৪২ হিজরী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী হচ্ছে না এ বছর
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা
মেধাবৃত্তির পরিবর্তে দেয়া হবে উপবৃত্তি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :  
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ না কমায় চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হবে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষা আয়োজন না করার প্রস্তাবে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিকল্প হিসেবে বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর সমাপনী পরীক্ষা না হওয়ায় এবছর মেধাবৃত্তি দেয়া হবে না। এর পরিবর্তে উপবৃত্তি দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার পঞ্চম শ্রেণির দুই সমাপনী (প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি) পরীক্ষার ২৯ লাখ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবে সম্ভব নয় বলেই আমরা মনে করেছি। সে অনুযায়ী একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় তিনি আমাদের প্রস্তাবে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এর আগে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১৯ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছিল। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, চলতি বছর ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩১ কর্মদিবস নির্ধারণ করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ দিন বিষয়ভিত্তিক পাঠদান দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মোট ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকছে। ঘরে বসে শিখি শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও পঞ্চম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হবে না। আবার যেসব শিক্ষার্থীর বাসায় টেলিভিশন নেই, তাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়নি।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশন শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। সে বিবেচনায় ১২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বেতারে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এতে ৯৭ শতাংশ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ও রেডিও’র মাধ্যমে পাঠ সুবিধা নিতে পারছে। অন্যদিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকেরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি পাঠ ও বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা সমাপনী নিতে হলে কমপক্ষে আর ৫০টি ক্লাস নিতে হবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবে বলছে, সেপ্টেম্বরে স্কুলগুলো খুলে দেওয়া না হলে পরবর্তী দুই মাসে দুই স্তরের বাকি ক্লাস শেষ করা যাবে না। তাই ২০২০ সালে এই দুই স্তরের সমাপনী পরীক্ষা বাদ দিয়ে ক্লাস মূল্যায়নের মাধ্যমে পাস করিয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়। সেই প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

যেভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠবে শিক্ষার্থীরা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম আল হোসেন জানান, স্কুল খোলা সম্ভব হলে নিজ নিজ স্কুল ও মাদ্রাসা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান করবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে হবে। প্রসঙ্গত দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে, যা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ বছরের পাবলিক পরীক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা না হওয়ায় এ বছর মেধাবৃত্তি দেয়া হবে না। বিদ্যালয় খুললে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও একগুচ্ছ পরিকল্পনা তৈরি করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কার, থার্মোমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। সবাইকে সেসব মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তামূলক এমন ৫০টির বেশি নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল ১৮ আগস্ট। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে: এদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে স্কুল খুলতে পারব।
তিনি বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে স্কুল রি-ওপেনিং হবে সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে আমরা এটা জারি করবো। স্কুল রি-ওপেনিং হলে কী কী করতে হবে, সেটা ওই নীতিমালার মধ্যে বলা আছে। প্রত্যেকটা স্কুলকে বলেছি, নিজেদের মতো করে রি-ওপেনিং প্ল্যান করতে। কারণ একেক স্কুলের ছাত্র সংখ্যা একেক রকম। এসব বিবেচনায় নিয়ে তারা পরিকল্পনা করবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) তিনটি বিকল্প পাঠ পরিকল্পনা করতে বলেছিলাম। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের জন্য তিনটি পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছিল। যেহেতু সেপ্টেম্বরে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি, তাই সেপ্টেম্বরকে বিকল্প হিসেবে ধরছি না। অক্টোবর এবং নভেম্বরকে সামনে রেখে যে পাঠ পরিকল্পনা করেছি, সেটাকে সামনে রেখে, সেটার ভিত্তিতে প্রত্যেকটা স্কুল ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র করে পরীক্ষা নেবে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com