৩০শে মে, ২০২০ ইং , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শিল্পোদ্যোক্তাদের সময়োপযোগী আহ্বান দেশকে সমৃদ্ধ করবে

বিনিয়োগবান্ধব দেশ

শিল্পোদ্যোক্তাদের সময়োপযোগী

আহ্বান দেশকে সমৃদ্ধ করবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ যদি ব্যবসাবান্ধব করা যায় তাহলে দেশ দ্রুততরভাবে উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে-এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। দুটি বড় রাষ্ট্রের পাশে বাংলাদেশের অবস্থান। চীনের সঙ্গে সরাসরি বর্ডার না থাকলেও খুবই কাছের এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র এটি। বিশ্বের যে কোনো ব্রান্ডের পণ্য এখানে তৈরী করে বাজারজাত করতে পারলে লাভবান হবে নিশ্চিত।

বিনিয়োগকারী ক্ষতির মধ্যে পড়বে না। এদিকে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পূর্বাভাস হলো- ‘এটি দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে’। বাংলাদেশ সময়ের বিবর্তনে যে কাক্সিক্ষত পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে এখন সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এখন সবার ওপরে। চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিকেও বাংলাদেশ এদিক থেকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

ভারত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে সংগতভাবেই বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪০টি দেশের ৮০০ প্রতিনিধির দুই দিনের ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পূর্ব এশিয়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এবং ভারতের ব্যবসার অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে।

নিজস্ব ১৬ কোটি মানুষ ছাড়াও প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজারের যোগাযোগের পথ হতে পারে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে উত্তম পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে শিক্ষা, হালকা প্রকৌশল শিল্প, ইলেকট্রনিক্স শিল্প, অটোমোটিভ শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলোয় বিনিয়োগ করার এখনই সময়।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি স্বাধীন ও উদার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার অভিলাষ নিয়েই সরকার যে এগিয়ে যাচ্ছে, তা যে কেউ স্বীকার করতে বাধ্য। এ লক্ষ্য পূরণে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও ১৬ কোটি মানুষ। আমরা জানি, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার বেশ বড়। বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে শ্রমের দাম কম। বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করায় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হতে পারেন- তা হলফ করেই বলা যায়।

রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ ভারতের শিল্পোদ্যোক্তারা এ সুযোগ গ্রহণ করলে তারা যেমন লাভবান হবেন তেমনই দুই দেশের মৈত্রীবন্ধন-সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com