২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা সফর, ১৪৪২ হিজরী

শিশুর মসজিদে আসা নিয়ে অজানা গল্প

শিশুর মসজিদে আসা নিয়ে অজানা গল্প

মসজিদে নামাজ পড়লেই চকোলেট

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ভেবেছিলাম, কোনো ভিনদেশ হবে। এই সেই নোয়াখালী জেলার এক ইমামের গল্প। শিশুদের ভালোবাসতেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নোয়াখালী জেলার কাড়িকান্দা এলাকার এক মসজিদের ইমাম দারুণ এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। তিনি শিশু মসজিদে নামাজ পড়তে এলেই দেন চকোলেট। এ অভিনব ঘোষণায় নিয়মিত মসজিদে শিশুদের উপস্থিত বেড়েছে। কোমলমতি শিশুরা পাচ্ছেন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা। মসজিদের ইমামের এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

কোমলমতি শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মসজিদের এক ইমাম। শিশুরা মসজিদে নামাজ পড়তে এলেই তাদেরকে দিচ্ছেন চকলেট। এছাড়াও নিয়মিত সপ্তাহজুড়ে নামাজে আসা শিশুদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও রয়েছে তার। প্রতি বৃহস্পতিবার ইশার নামাজের পর বেশি চকলেট পাওয়া এসব শিশুদের পুরস্কৃত করা হয়।

মসজিদে ইমাম সাহেব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সম্পর্কিত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ইমাম সাহেবের ডাক …
আমি নোয়াখালী জেলার কোনো এক থানার গ্রাম মসজিদের ইমাম। বহুদিন আগে ফেসবুকে একটা পোস্ট পড়েছিলাম বাচ্চাদের মসজিদে (নামাজে) নিয়ে আসার বিষয়ে। সেই পোস্ট পড়ার পর আমিও চিন্তা করেছিলাম বাচ্চাদের মসজিদে নিয়ে আসার জন্য কিছু একটা করার।

তারপর আমি মসজিদে জুমার নামাজে ঘোষণা করলাম-
১২ বছরের নীচে যত বাচ্চারা মসজিদে আসবে প্রত্যেক ওয়াক্তে আমার পক্ষ থেকে ২ পিছ করে চকলেট পাবে। আর আমি চকলেট দেয়ার সময় লিখে রাখবো, যে যতো বেশি চকলেট পাবে সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পরে তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।

আমি যখন এই ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন ভেবেছি এতে ওতো একটা আহামরি সাড়া পাবো না কিন্তু আল্লাহ তালার ইচ্ছা অপরিসীম। এক সপ্তাহ/দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই গড়ে ১০ থেকে ২০ জন বাচ্চা প্রতিনিয়ত মসজিদে আসা শুরু করলো।
প্রথম সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৫৮টি চকলেট পেয়েছিলো ৮ বছরের সালেহ নামে একটা ছেলে, তাকে পুরস্কৃত করেছিলাম শুধু একটা জ্যামিতি বক্স দিয়ে।

আমি বাচ্চাদের বলে দিয়েছিলাম বাচ্চারা শুধু মসজিদে নামাজ পড়তে আসবে না, তারা মসজিদে আসবে খেলবে, দৌড়াদৌড়ি করবে, হাসাহাসি করবে। আর এতেই কিছু মুরুব্বীদের গা জ্বালা শুরু হয়ে গেল।

তারা যেমন বাচ্চাগুলোর ওপর ক্ষিপ্ত হলো, তেমনি ক্ষিপ্ত হলো আমার উপরেও। আমি সোজাসুজি বলে দিলাম দরকার হলে আমি শুধু বাচ্চাদের ইমামতি করবো, আপনারা অন্য মসজিদ দেখতে পারেন।

কারণ আমি এই এলাকারই সন্তান। আমি জানি, পরবর্তী প্রজন্ম নামাজি না হলে কি ভয়ঙ্কর হবে এলাকার পরিস্থিতি! আমার বড় শক্তি ছিলো আমার কমিটির অধিকাংশ লোকজন আমার এই আয়োজনে সঙ্গী ছিলো।

কিন্তু দায় সাধলো এতো চকলেট দেয়ার সাধ্য আমার ছিলো না, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ পিছ চকলেট লাগতো। আমার মসজিদের কমিটিতে কিছু যুবক ভাইয়েরা ছিলো। আমি তাদের সাথে আলোচনা করলাম। দুজন ভাই আমার সাথে একাত্মতা পোষণ করল এবং তারা চকলেটের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করল।

পরের সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি চকলেট পেয়েছিল ৬ বছরের একটা মেয়ে, অবাক করার মত বিষয়! তার বাবা সব সময় তাকে নিয়ে আসতেন মসজিদে। তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল একটা ভালোমানের অ্যালার্ম ঘড়ি দিয়ে।

বোন আমার, মসজিদে এখন গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন বাচ্চা উপস্থিত হয়। আমার সামনের কাতারের অধিকাংশ মুসুল্লি বাচ্চারা থাকে, প্রথমদিকে যেরকম হাসাহাসি দৌঁড়াদৌড়ি হতো এখন আর ওরকম হয় না। তারা এখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com