২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং , ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

শেখ আবদুল্লাহর ইন্তেকাল ও আমাদের রাজনৈতিক মানহাজ

শেখ আবদুল্লাহর ইন্তেকাল ও আমাদের রাজনৈতিক মানহাজ

সগীর আহমদ চৌধুরী : শেখ আবদুল্লাহ, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন। লোকটি ভালো মানুষ ছিলেন, ওলামায়ে কেরামকে ভালবাসতেন, তাঁদের সাথে সম্পর্ক রাখতেন, তিনি অন্যান্য মন্ত্রীদের তুলনায় সৎ ছিলেন। এসব কথা সবাই বলছেন। তাঁরা এও বলছেন যে, তাঁর ইন্তিকালের পর অপর আলেম সাংসদ প্রফেসর ড. মাওলানা আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দীন নদভীকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী করা হোক। আমাদের ভাগ্য ভালো যে, এই মুহূর্তে একজন নদভী আছেন যাঁকে নিয়ে আমরা দাবি পেশ করতে পারছি।

কাজেই আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতিতে যেসব আলেম-ওলামা জড়িত এসবকে দালালি-ফালালি বলার নীতি পরিহার করা উচিত। এটাকে কৌশল ভাবা উচিত। মনে আছে, যখন নদভী আওয়ামী লীগে যোগ দেন তখন তাঁকে নিয়ে কি অসম্মানজনক, মানহানি ও আপত্তিকর বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছিল। আজতো তিনি আমাদের দাবির জায়গায় চলে এসেছেন। এমনও একদিন হয়তো আসবে যে, মুফতী ফয়জুল্লাহ সাহেবগণও সেই জায়গায় চলে আসবেন, চোখের মধ্যমণিতে পরিণত হবেন। শেষকথা বলে কিছু নেই। হ্যাঁ, ক্ষমতার বাইরে যারা থাকবেন তাঁরা নিজেদের যতো হকই দাবি করুন না কেন তাঁরা কখনোই জনপ্রিয় হয়ে ওঠবেন না। রাজনীতিতে ক্ষমতাহীনতার কোনো মর্যাদা নেই।

মরহুম শেখ আবদুল্লাহর ইন্তিকালে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন বেরলবী হযরাত, তারা এখন সেই জায়গায় মাইজভাণ্ডারীকে চান। এর মোকাবেলায় আমাদের কাছে নদভীর বিকল্প নেই। বিকল্প না থাকার এই বাস্তবতাই তাঁর আওয়ামী লীগের যোগদানের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর আওয়ামী লীগে যোগদানে ইসলামের লাভ হয়েছে, ওলামায়ে কেরামের সম্মান বেড়েছে এবং তাঁর দ্বারা দীনের অধিকতর খেদমত হয়েছে। তিনি তা না করে জামায়াত বা কোনো ইসলামি দলে যোগ দিলে যা কখনো সম্ভব হতো না।

উপলব্ধি করি যে, “দেওবন্দিয়ত” এটি কোনো রাজনৈতিক মানহাজ নয়, এটি একটি দাওয়াতী মানহাজ। এর শিক্ষার্থীগণ ইসলামের সঠিক জ্ঞান হাসিল করে এবং এর তাৎপর্য বুকে ধারণ করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। কাজেই নদভীর মতো আরও অনেককেই বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়া উচিত। এমন নয় যে, যারা কওমি মাদরাসায় পড়বেন তারা শুধু ইসলামি দলই করবেন বা নির্দিষ্ট একই দলই গঠন করবেন। এভাবে শুধু মাদরাসা, গোষ্ঠী ও ঘরানা-বেইসড দল গঠনও উচিত না। ইসলামি দলগুলোরও বেড়ে ওঠা উচিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতোই সাধারণ রাজনীতিক দল হিসেবেই। দেওবন্দী-বেরলবী হিসেবে নয়।

লেখক : রাজনীতিক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com