২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত

সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নতুন নতুন ফর্মুলায় সংগঠিত হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। একদিকে নতুন সংগঠন আরেকদিকে পুরনো সেই নামেই ঘর গোছাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন এনজিও, ওলামা কমিটি, মাহফিল কমিটিন, যুব কমিটি, তরুণ যুব সমাজসহ নানা ব্যানারে সভা-সমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামের লোকজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করতে সংগঠিত হচ্ছেন। বিশেষ করে দলকে ঢেলে সাজাতে সব কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বও নির্বাচন করেছেন নেতারা।

জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাকালে দলটির নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। দলের প্রচারপত্র, চাঁদা সংগ্রহের রসিদসহ নারী কর্মীরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে কৌশল পরিবর্তন করে নিজেদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী এমনিতেই চাপে আছে। প্রকাশ্যে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারে না। তাই অনেক সময় ভার্চুয়াল সভা করতে হয়। এভাবেই দল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব কমিটির মেয়াদ পার হয়ে গেছে সেগুলো নতুন করে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১৩-১৪ সালে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এনএস রোডে জামায়াত-শিবির কর্মীরা আচমকা হামলা করলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া অবরোধ চলাকালেও শিবির কর্মীরা নাশকতা চালায় জেলার বিভিন্ন স্থানে। এর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে গেলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের তৎপরতা অনেকটা কমিয়ে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ সালের পর কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী অনেকটা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলতে থাকেন। অনেকে দল ত্যাগ করে সরাসরি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগে পদও পেয়েছেন। ওলামা লীগের কমিটিতেও যোগ দিয়েছেন অনেকে।

জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত এমন কয়েকজন জানান, সাময়িকভাবে বাঁচতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে মিছিল করে জামায়াত-শিবির। সেখানে সম্মিলিত ওলামা কমিটির ব্যানার ব্যবহার করা হয়। এই মিছিলে জামায়াত-শিবিরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, জামায়াতের রাজনীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। নানা চাপের কারণে তারা কৌশল বদলে ফেলেছেন। তারপরও রাজনীতিতে তারা টিকে আছেন। অনেক ইউনিয়ন ও উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। নতুনরা নির্বাচিত হয়েছে। সময়মতো মাঠের আন্দোলনে নামবে জামায়াত। এ জন্য তারা সুযোগের অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেকে মিশে রাজনীতি করছেন। এটা তাদের সাময়িক কৌশল।

যোগাযোগ করলে জেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যক্ষ একেএম আলী মহসিন বলেন, রাজনীতি করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সব খানেই চাপ। তাই আপাতত তারা চুপচাপ। তবে মেয়াদ পার হওয়া কমিটিগুলো তারা গঠন করছেন। ডিসেম্বরের আগেই সব কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে। কারা কমিটিতে আসবে সে বিষয়টি নেতারা নির্বাচিত করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com