১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

সঙ্কটে আল্লামা মাসঊদ এক বিশ্বস্ত রাহনুমা

সঙ্কটে আল্লামা মাসঊদ এক বিশ্বস্ত রাহনুমা

আমিনুল ইসলাম কাসেমী :: আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবকে নিয়ে অনেকদিন ধরে কিছু লিখি না। কেননা, ফেসবুকের কিছু অতিউৎসাহী এবং আবেগী লোকদের কারণে কলম মেরামত বন্ধ রেখেছি। উনারা এমন, কিছু লিখলেই না বুঝে, না পড়ে, শুধু শিরোনাম দেখেই তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। সহজেই সে জ্বালা প্রশমিত হয় না। তখন তারা অশ্লীল মন্তব্য করেন। বিশেষকরে ফেসবুকে ঘাপটি মেরে থাকা নবী- সাহাবীদের দুশমনদের কাছে তো তিনি চোখের কাঁটা। ওরা ক্ষেপে গিয়ে যা- ইচ্ছে তাই ভাষা ব্যবহার করতে থাকে। পুরো ওলামায়ে দেওবন্দকে গালমন্দ করতে দ্বিধাবোধ করে না। যার কারণে ঐ চ্যাপ্টারটা অনেকদিন বন্ধ রেখেছিলাম।

বর্তমানে অনেকদিন ধরে কওমী অঙ্গনের ওপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে। এর গতি অনেক বেশী। একদম উপড়ে পড়ছে সবকিছু। দুঃখজনক হল, নিজেদের ঘর নিজেরাই শেষ করছি, নিজেদের কুড়ালের আঘাত ঠিক নিজেদের পায়ে গিয়ে পড়ছে। যে অস্ত্র বানানো হয়েছে বাতিল শক্তিকে জব্দ করার জন্য, সেটা এখন নিজেদের উপর ব্যবহার হচ্ছে।
এই রকম সংকটপূর্ণ মুহূর্ত কওমীতে আগে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। বহিরাগত লোকের আর প্রয়োজন পড়ছে না। কারণ, আমরা বহিরাগত দুশমনদের সাথে এমন সখ্যতা, প্রীতি গড়ে তুলেছি, এখন ওদের আর প্রয়োজন নেই। ওরা আমাদের এমন সবক দিয়েছে, যে সবকে চলছে এখন বছরের পর বছর। ওদের সাথে ওঠাবসায় আমরা যা শিখেছি, তাতে এখন ওরাও মনে হয় হার মানবে!

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউ সাহেব এই ওয়াজগুলো সারাজীবন করে আসছেন। চরমোনাই-এর মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করীম সাহেব রহ. যতদিন বেঁচে ছিলেন, তিনিও এই বয়ানগুলো করে গেছেন। আমাদের পূর্বসুরী ওলামায়ে কেরাম, আকাবির- আছলাফগণ একই বয়ান করেছেন। তাদের এক কথা, বাতিলের সাথে কোন আপোস নেই, বাতিলের সাথে কোন বন্ধুত্ব হতে পারেনা, দেওবন্দী চিন্তাধারার সকল আলেমদের একই স্লোগান ছিল। বাতিলকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তাদের সাথে কোন মোয়াদালা হবে না।

এখন কী অবস্থা আমাদের? বাতিলকে চেনার উপায় আছে? সবই তো খলত-মলত। হকের সঙ্গে মিক্সড হয়ে আছে। আর একারণে দিনে দিনে অশান্তি বাড়ছে। এমন এমন অশান্তি, যেটা আমরা কল্পনা করতে পারিনি, সেটা এখন হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে।

বাতিল যতই হকের লেবাস ধারণ করুক, সে কিন্তু বাতিল। আর বাতিল তো প্রত্যাখ্যাত। এই চিন্তা- চেতনাই লালন করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

এ নীতিই আমাদের এবং দেওবন্দী আলেমদের। কিন্তু যখনই আল্লামা মাসঊদ সাহেব আকাবিরে দেওবন্দের নীতি- আদর্শের উপর চলা শুরু করলেন, তখনই শুরু হল, আঘাতের উপর আঘাত। ঐ যে ওদের মদদে তাঁকে অপমান- অপদস্থ করা হল। মিছিল- মিটিং করা হল, রাজপথে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান মারল। কিছু জেহেন বিগড়ানো আলেম সেখানে নেতৃত্ব দিলেন। বহু হেস্ত-ন্যাস্ত করা হল বয়োবৃদ্ধ আলেম আল্লামা মাসঊদকে।

ঐরকম চরমোনাই এর মরহম পীর সাহেব আকাবির- আছলাফের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছিলেন, তিনিও যখন হক কথা বলা শুরু করলেন, তাঁকেও যথেষ্ট হেনস্তা করা হয়েছে। গালমন্দ করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করা হয়েছে বহুবার। এখনকার যারা পীর আছেন, তাঁরা আকাবির- আছলাফেের অনুসারী। এঁনারাও হক- হক্কানিয়্যাতের উপর দণ্ডায়মান। এঁদেরও ঠিক ঐরকম টার্গেট বানানো হয়েছে। নানানভাবে চেপে ধরা হয়। অগ্রসর হলেই জামার আস্তিন টেনে ধরা হয়। মিটিংএ উপস্থিত হতে গেলে সেখানকার মঞ্চে উঠতে দেওয়া হয় না।

দেখুন! আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব হুবহু আকাবির- আছলাফের নকশে কদমে পা রেখে চলেছেন। কোন হেরফের নেই। যেভাবে চলেছিলেন শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ., যেভাবে চলেছিলেন শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ., যেভাবে চলেছিলেন আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ., ঠিক তাদেরই অনুসরণ করে চলেছেন।

আমিতো মনে করি, শায়খুল ইসলাম মাদানীর যে চিন্তাধারা ছিল, বর্তমানে ঠিক সেই চিন্তাধারার ধারক- বাহক তিনি। উস্তাদ কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ-এর ফয়ুজ- বারাকাত হাসিল করেছেন। আজীবন উস্তাদের অনুগত এই মহান ব্যক্তি। আবার কাজী সাহেব তো শায়খুল ইসলাম মাদানীর সোহবতপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিত্ব।

মাদানী চিন্তা- চেতনা, মাদানী দর্শনে চলা ব্যক্তিত্ব আল্লামা মাসঊদ। যার জুড়ি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শত ঝড়- ঝঞ্জা উপেক্ষা করে দৃঢ়তার সাথে রয়েছেন। কম ঝড়- তুফান এসেছে? কিন্তু পরোয়া নেই। আকাবির- আছলাফের পরিপূর্ণ অনুসারী। দেওবন্দী আলেম, দেওবন্দ ইদারার প্রতি তাঁর পরিপুর্ণ আস্থা। মানে এত মজবুত, যে যাই বলুক, তিনি দেওবন্দী চিন্তা- ধারা বক্ষে ধারণ করে রেখেছেন।

ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ. বলতেন, বাংলাদেশে দেওবন্দীয়্যাত বোঝারমত দুইজন আলেম পাওয়া যায়, এক. আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ., দুই, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম। কথাটি ধ্রুব সত্য। ফেদায়ে মিল্লাত যথার্থ বলেছিলেন। কওমী অঙ্গনের ক্রান্তিকালে ইস্পাতের মত মজবুত ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব। হাজারো সমস্যা, তিনি দেওবন্দের নীতিতে অনড়।

আজ আমরা যারা দেওবন্দীয়্যাত বুঝিনি, দেওবন্দের নীতি আদর্শ ছেড়ে দিয়েছি, আকাবির- আছলাফের মতপথকে ত্যাগ করেছি, তারাই এখন অশান্তির দাবানলে হাবুডুবু খাচ্ছি। নিজেরা নিজেরা কামড়াকামড়ি করে যাচ্ছি। একে অপরের বিরুদ্ধে তোহমত, সন্দেহ, পিছে লাগা, ঘায়েল করা, খেয়ানত করা, পদ-পদবীর লোভ। যত নিকৃষ্ট কাজ আছে সবই করে যাচ্ছি। বড় আফসোস! আজ এরকম অবস্থা, জাহেলদের হার মানায়। এখন পদের জন্য লবিং, এখন খেয়ানতের অভিযোগ ওঠে। এখন স্বজনপ্রীতি করা হয়। আরো কত কী?

আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ সাহেব বলতেন, আমাকে বেদআতী এবং মওদুদী ফিরকার লোকেরা নানান অভিযোগ করেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানে আমাকে খেয়ানতকারী বলতে পারেনি। কোনদিন অাত্মসাতের অভিযোগ করতে পারেনি কেউ। কাজী সাহেব যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় ৯ বছর মুহতামিম ছিলেন। তাও প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম। কিন্তু কেউ একটা পয়সা খেয়ানতের অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেনি। তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে বিদায় নেওয়ার সময়, ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার একটা রুম ভাড়া করে, পাই টু পাই হিসাব বুঝিয়ে দেন। এভাবে জীবনে বহু প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম এবং শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কোথাও কোন প্রকার অভিযোগ করার সুযোগ পায় নি।

কাজী সাহেবের প্রিয় শাগরেদ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব। কাজী সাহেব তিনি ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের যোগ্যতা এবং গুণাবলীতে মুগ্ধ হয়ে উস্তাদতুল্য ছাত্র হিসেবে সম্বোধন করতেন। আর প্রিয় ওলামায়েকেরামের কাছে নিজের অভিব্যক্তি পেশ করতেন।

আল্লামা মাসঊদ সাহেব তাঁর ইলমী যোগ্যতা, আকাবির – আছলাফের নীতি- আদর্শে দৃঢ়তায় বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি রূপে প্রকাশিত হয়েছেন । সৎ- নির্ভীকতা, হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটলতা, অবিচলতায় তিনি পুরো মুসলিম বিশ্বের আলেম সমাজের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। তিনি দিনে দিনে যেন আরো আলো ছড়াচ্ছেন। উজ্জ্বল্যতায় ভরে যাচ্ছে তাঁর জীবন। যেন এক সোনার মানুষ।

হিংসা যতই করুক, যে যত ভাবে তাঁকে গালমন্দ করুক, যারাই রাজপথে তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়াক, মিথ্যার বেসাতী যে যতই জাহির করুক, প্রোপাগান্ডায় ভরে দিক যতই, আল্লামা মাসঊদ সাহেব কিন্তু দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছেন। সঠিক পুণ্য পথে তাঁর অবিরাম যাত্রা। পিছু হটা মানুষ কিন্তু তিনি নন।

পাছে লোকে কিছু বলে, এটা তিনি দেখেন নি। তিনি কাজের প্রাধান্য দেন। হক কে হক বোঝার চেষ্টা এবং বাতিলকে বাতিল বোঝার কোশেশ করেন চিরদিন। যার কারণে তিনি আজো অনন্য। বে- মেছাল।

একটা বিষয় বহু বছরধরে লক্ষ্য করছি, তিনি যে বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি বুঝে ফেলেন, অন্যদের বুঝতে অনেক সময় লেগে যায়। না বুঝে ফরীদ সাহেবকে কতভাবে হেনস্তা করা হয়, তার হিসাব নেই। শেষমেষ ফরীদ সাহেবের দর্শন কবুল করেন সবাই। এতদিন গালমন্দ করে পরে ঠিকই ফরীদ সাহেবের চিন্তাধারাকে কাজে লাগান সকলে।

যে যাই বলেন, আমি তো দেখছি, এ তো শায়খুল ইসলাম মাদানীর চিন্তাধারার যোগ্য ধারক- বাহক। হযরত মাদানীর চিন্তা- ধারা অনেকেই তখন বোঝেনি। শেষমেষ সবাই বুঝল, কিন্তু ততক্ষণে সব কাম সারা হয়ে গেল। পরে আফসোস ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

একজন নবীওয়ালা আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসারী আল্লামা মাসঊদ। ঠিক শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী নববী আখলাকের যেন মূর্তপ্রতীক ছিলেন। শত্রুকে কাছে পেয়ে প্রতিশোধ না নেওয়া এটাতো নবীওয়ালা আখলাক।

কত্ত মানুষ ফরীদ সাহেবকে কষ্ট দিয়েছে। নির্জলা মিথ্যাচার করেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে এ্যাকশানে যাননি কোনদিন। বরং দুআ করেছেন হেদায়েতের জন্য। হুসাইন আহমাদ মাদানীকে বহু মানুষ কষ্ট দিয়েছে, হিন্দুদের দালাল বলেছে, ফাসেক বলেছে, কাফের বলেছে, তারপরেও কোনদিন কারো বিরুদ্ধে কোন প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা মাথায় আসেনি। ভদ্রতা, শরাফতীর এক বে- মেছাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁদের আখলাক, চাল- চলন সত্যি বে- মেছাল। কোন তুলনা হয় না।

রাজনৈতিক ময়দানে আলেমদের সাথে ইখতেলাফ ছিল চরম আকারে। হযরত থানুভী রহ: এর সাথে মতানৈক্য ছিল। এমনিভাবে বহু আলেমদের সাথে তাঁর রাজনীতির মিল ছিল না। তাই বলে, কোনদিন কাউকে নাঙা করেন নি। কাউকে অপমান- অপদস্হ করার মানসিকতা তৈরী হয়নি। বরং বিরোধী চিন্তা- চেতনার আলেমদের সাথে সাক্ষাত হলে এক দস্তারখানে খানা খেয়েছেন, একে অপরের হালপুরছি করেছেন। তাদের কথা- বার্তায় বোঝা যায় নি, এঁদের মাঝে কোন মতানৈক্য রয়েছে। বরং একে অপরের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল।

এই সময়টা বড় দুঃখের। আকাবির- আছলাফের নীতি,আদর্শের কিছুই যেন আমাদের নেই।যেভাবে কাঁদাছোড়াছুড়ি হচ্ছে, এর শেষ কোথায় আল্লাহ মালুম।

এজন্য এই ক্রান্তিকালে আকাবিরে দেওবন্দের জীবনাদর্শ দেখা দরকার। বড়দের জীবনী পড়া দরকার। তাদের জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব, যিনি আকাবির- আছলাফের পরিপূর্ণ অনুসারী ব্যক্তি, এরকম ব্যক্তিদের সাহচার্য গ্রহণ করা আমাদের অতীব প্রয়োজন। দেওবন্দীয়্যাত বোঝা আলেমদের সান্নিধ্যে সময় কাটানো। নিজেকে বড় সমঝদার মনে না করে পূর্বসুরীদের বাতলানো রাস্তায় ওঠা চাই।

আমরা ভুলেগেছি আমাদের ঐতিহ্য, সোনালী অতীত। বাতিলের রাহুগ্রাসে আজ বন্দী। এর থেকে পরিত্রাণের রাস্তা, বাতিলকে বন্ধু রূপে গ্রহণ আর নয়। বাতিলের সঙ্গ ত্যাগ করে নিজেরা চলার চেষ্টা করতে হবে।

আমাদের ছারে তাজ, কিংবদন্তী, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের খ্যাতনামা স্কলার, দারুল উলুম দেওবন্দের সূর্যসন্তান, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার, বাতিল শক্তির আতঙ্ক, হক- হক্কানিয়্যাতের পতাকাবাহী মহান ব্যক্তিত্ব, নববী আদর্শে উজ্জীবিত মহান সৈনিক, আওলাদে রাসুল ফেদায়ে মিল্লাতের খলিফা, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের পথচলা আরো সুন্দর- সুদৃঢ় হোক।

জাতির সংকটকালে তিনি আলেম- উলামাদের সঠিক পথে রাহবারী করেন। এই কামনা করি বারবার। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে নেক হায়াত দান করেন। আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক : মাদরাসা শিক্ষক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com