১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

সজীব ওয়াজেদ জয়, সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি

ফিরে দেখা । ওবায়দুল কাদের

সজীব ওয়াজেদ জয়, সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি

তাঁর দিন-রাত পরিশ্রম, সততা, দেশপ্রেম, মানবিকতা—তাঁকে কোটি কোটি মানুষের আস্থার বাতিঘরে রূপান্তর করেছে। তিনি আমাদের নির্ভরতার সোনালি দিগন্ত…

১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে অমিত সম্ভাবনা আর সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এক দেশ—বাংলাদেশ। ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসা এক উদীয়মান অর্থনৈতিক ব্যাঘ্র—বাংলাদেশ। ফিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে সক্ষমতার পরিচয় দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে দেদীপ্যমান এক সম্ভাবনার নাম—বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু আমাদের এনে দিয়েছেন স্বাধীন মানচিত্র, সার্বভৌম পতাকা। তিনি আমাদের স্বাধীনতার রোল মডেল। তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা এনে দিয়েছেন উন্নয়ন ও অর্জনের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি। তিনি আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির রোল মডেল। আর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যার স্বপ্নকে এগিয়ে বাস্তবে রূপ দিতে যিনি বিকাশমান প্রযুক্তির সহায়তায় দেখিয়ে যাচ্ছেন বিস্ময়কর সাফল্য, লাখ লাখ তরুণের প্রাণে বপন করে চলেছেন স্বপ্নজয়ের বীজ, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যিনি নেপথ্য কারিগর তিনি বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, পরিশ্রমী, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন জীবন এবং জীবিকার অধিকারী সজীব ওয়াজেদ জয়—অনন্য একজন।

সজীব ওয়াজেদ জয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েটের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন সজীব ওয়াজেদ জয়।

বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে, অর্জন করছে সক্ষমতা। দেশরত্ন শেখ হাসিনার অমিত অর্জন ও সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ বিশ্বমাঝে বাংলাদেশ সমৃদ্ধি ও অর্জনের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর বিচক্ষণ, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্ব এবং জনমানুষের সাগরসম ভালোবাসা ও আস্থাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের নেপথ্য শক্তি।

আমাদের অনেকের অজান্তে বদলে গেছে দেশের প্রযুক্তি তথা যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবয়ব কী, এখন আর কাউকে বোঝাতে হয় না। হাতের মোবাইলের বাটনে এখন গোটা বিশ্ব, বিশ্ব যোগাযোগ আর গতিময় জীবনযাপনের পথনকশা। আমাদের আইসিটি সেক্টরে যে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে তার প্রমাণ করোনাকালে অব্যাহত অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা।

করোনা মহামারি গৃহবন্দি করেছে বিশ্বের মানুষকে। এ সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যোগাযোগের সব দরজা। কিন্তু আইসিটির জানালা রয়েছে খোলা। এ খোলা জানালা দিয়েই আমরা ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সামাজিক, ব্যাবসায়িক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিংসহ সব খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ঘরে বসেই জীবনযাপনের সব উপাদান সচল রেখেছি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অব্যাহত উন্নতির কল্যাণে। এটাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এটাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারিশমা। আর এ আইসিটি সক্ষমতার রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁর দক্ষ একদল সহকর্মী কোটি কোটি মানুষের জীবনে স্বস্তি এনে দিতে, জীবনকে সহজতর করতে শেখ হাসিনার হাতকে করছেন শক্তিশালী। আমি আইসিটি খাতের চেঞ্জমেকারদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়ায় বদলে গেছে আয় ও কর্মসংস্থানের গতানুগতিক ধারা। যেসব তরুণ একসময় হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজেছে, তারা এখন অন্যকে চাকরি দেয়। দেশের লাখ লাখ তরুণ এখন ঘরে বসে আয় করছে। প্রতিযোগিতা করছে গোটা বিশ্বের সঙ্গে। শুধু একটি ল্যাপটপ আর একটি সংযোগ, সঙ্গে তারুণ্যের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অযুত-নিযুত তরুণপ্রাণে এ সতত স্বপ্ন বুনে চলেছেন স্বপ্নবান সজীব ওয়াজেদ। টেকবিশ্বের নতুন নতুন উন্নয়ন ধারণা, প্রযুক্তি আর কনটেন্ট এখন এ দেশের তরুণদের আঙুলের ডগায়। এ মেধাবী তারুণ্যের হাত ধরেই সমৃদ্ধির সোনালি সোপানে পৌঁছবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।

এ দেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বলিষ্ঠ অবদান। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। এ দেশের রাজনীতিতে সততা আর দেশপ্রেমের অনন্য নজির বঙ্গবন্ধু পরিবার। ১৯৭৫-পরবর্তী দেশে সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক, সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা। ১৯৭৫-পরবর্তী দেশে সবচেয়ে দক্ষ কূটনৈতিক এবং মানবিক নেতৃত্বের নাম শেখ হাসিনা। যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে সৃষ্টির পতাকা ওড়ান, সংকটকে রূপান্তর করেন সম্ভাবনায়।

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা এবং তাঁদের পরিবারের সব সদস্য দেশমাতৃকার মর্যাদা সুরক্ষায় অবিচল। তাঁরা সমুন্নত রেখে চলেছেন দেশের সম্মান সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও। কেউ গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসাননি। পরিশ্রম আর আপন মেধায় নিজ নিজ আসনে সবাই উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা আমাদের অর্জনের মহাসড়কে ক্ষণিকের জন্য ছন্দঃপতন ঘটালেও যতক্ষণ শেখ হাসিনা চালকের আসনে, নেতৃত্বের আসনে আছেন ততক্ষণ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে লক্ষ্যপানে। এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির বর্ণিল দিগন্তে। তাঁর দিন-রাত পরিশ্রম, সততা, দেশপ্রেম, মানবিকতা—তাঁকে কোটি কোটি মানুষের আস্থার বাতিঘরে রূপান্তর করেছে। তিনি আমাদের নির্ভরতার সোনালি দিগন্ত। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে আমি ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্য নায়ক, নিঃশব্দে ঘটে যাওয়া আইসিটি বিপ্লবের স্থপতি, বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সুযোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মবীর, কোটি তরুণের স্বপ্নসারথি সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তাঁর পরিবারের সব সদস্যকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কামনা করছি দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য।

লেখক : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com