১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সমৃদ্ধির বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা

 

করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকাই থাকছে

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা চার দশকের সর্বোচ্চ

ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা

ভ্যাট ১৫ শতাংশই থাকছে

বাজেটের অর্থ আসবে যেভাবে

মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে থাকার আশা

বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্যখাতে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন তিনি। দেশের ৪৬তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রীর একাদশ বাজেট প্রস্তাব এটি। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের নাম দিয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে আগামী বাজেটের আকার বেশি প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাথ ৯৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৫৩ হাজার৩৩১ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপরই বরাদ্দ পেয়েছে বেশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সরকারের সুদ পরিশোধে, ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপরই বরাদ্দ পেয়েছে বেশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এবং পেনশন অবসর ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকাই থাকছে : আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ধরে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেখে নেওয়া যাক এক নজরে বাজেটের বিষয়বস্তু। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ধরে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ধরা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। বর্তমান অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। নারী ও ৬৫ ঊর্ধŸ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা। অঞ্চলভিত্তিক ন্যূনতম করের হার ৫ হাজার, ৪ হাজার ও ৩ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগামী তিন বছর ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থাকছে। পরিবেশবান্ধব কারখানায় আয়কর ১৪ শতাংশ। তৈরি পোশাক শিল্পের করপোরেট কর হার ২০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এর কর অব্যাহতির সীমা বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা চার দশকের সর্বোচ্চ : আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ বেশি হবে বলে আশা করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে গিয়ে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে যে লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এটা চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুহিত বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম ৭.২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা ৭.২৪ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এা ৫.৩৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলে জানান মুহিত। যদিও এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় শতাংশের কিছু বেশি। চলতি বছরের মধ্যে আগামী অর্থবছরেও অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি থাকার প্রভাবে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়বে। এতে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও সার্বিক লেনদেনে ভারসাম্য থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবৃদ্ধিশীল মুদ্রানীতিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে সুদের হার নিম্নগতি থাকার সুবিধা পাবে জনগণ।

ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। যা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ শতাংশের নিচেই থাকছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের শীর্ষক ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা জানান। এ সময় আগামী অর্থবছরের জন্যে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ঘাটতি জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৪ দশমিক ৬ মধ্যে থাকছে। ২০১৫-১৬ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ছিল ৫ শতাংশ। আর ২০১৩-১৪ এবং ২০১২-১৩ বছরে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল যথক্রমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বাজেটের মোট আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট হচ্ছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ ঋণের উপর নির্ভরশীল হয় সরকার।

ভ্যাট ১৫ শতাংশই থাকছে : আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পণ্য ও সেবা বিক্রির ওপর অভিন্ন ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হবে বলে প্রস্তাব করেছেন তিনি। জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন মুহিত। রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করে প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তিনি। ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে ৯১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের প্রস্তাব করেন মন্ত্রী। এই অর্থ এনবিআরের মাধ্যমে তার দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার ৩৬.৮ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হয়েছে এবং তাতে ভোক্তারা ও ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশেই বহাল রাখার প্রস্তাব করছি। মূল্য সংযোজন কর এক ও অভিন্ন হারে প্রয়োগ করা হবে এবং আগামী তিন বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে। ২০১২ সালের মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করার কথা ছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে দেয় সরকার। তখন বিদ্যমান প্যাকেজ ভ্যাটের হার বাড়িয়ে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা তা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও বাজেটে এই প্রস্তাব করলেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটের অর্থ আসবে যেভাবে : উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের স্লোগানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্যে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি মুহিতের একাদশ বাজেট। আর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে টানা নবম বাজেট। এর আগে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দুবার বাজেট পেশ করেছিলেন এমএ মুহিত। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। নতুন অর্থবছরের বাজেটের অর্থ সংগ্রহের মূল উৎস ধরা হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর। এ খাত থেকে অর্থ আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা বাজেট আকারের ৬২ শতাংশ।বাকি অর্থ আসবে অভ্যন্তরীণ ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক অনুদান, এনবিআর বহির্ভূত কর এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি থেকে। এর মধ্যে অভ্যান্তরীণ ঋণের মাধ্যমে আসেবে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ, বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ, বৈদেশিক অনুদান ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, এনবিআর বহির্ভূত কর ২ দশমিক ১০ শতাংশ এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে থাকার আশা :  গড় মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬ .১ শতাংশ। ০.৩ শতাংশে বেশি হয়েছে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন মুহিত। রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করে প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তিনি। চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) এই হার ৫.৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন মুহিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬ .১ শতাংশ। ০.৩ শতাংশে বেশি হয়েছে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী। আর মাসওয়ারি, অর্থাৎ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরে মুহিত বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সম্প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথাপি, মূল্যস্ফীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ নাগাদ ১২ মাসের গড়ভিত্তিক সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫.৩৯ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬.১০ শতাংশ। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা, সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রা নীতি, হাওরের ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সারাদেশে সন্তোষজনক কৃষি উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে চলতি অর্থবছর শেষে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই থাকবে বলে আমি মনে করি বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্যখাতে : মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্যখাতে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সার্বিক উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে এ খাতে মোট ১৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরে ১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে। তবে সংশোধিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ১৩ হাজার ৩৩৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। ৫৩টি উপজেলায় চালু করা হয়েছে গরীব দুস্থ ও জটিল গর্ভবর্তী নারীদের মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি। এছাড়া জরুরি প্রসূতি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে ১৩২টি উপজেলায়। সব জেলা ও ৪১৮টি উপজেলা মোবাইল ফোন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং ৪৩টি হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে একটি সার্বক্ষণিক কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com