২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সাউন্ড গ্রেনেডরা মুবাহালায় আসবেন?

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

সাউন্ড গ্রেনেডরা মুবাহালায় আসবেন?

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

ওয়াজ মাহফিলের বক্তারাই জাতির বিভক্তি সৃষ্টিতে বেশী ভূমিকা রেখেছে। কিছু সাউন্ড গ্রেনেড, কিছু কিছু বাজারি বক্তারা সবসময় উম্মতের ফাটল তৈরী করার পাঁয়তারা করেছিল । বর্তমানে যে সমস্যা চলছে, এটার জন্য ঐ সব বক্তারাই সবচেয়ে বেশী দায়ী। বক্তারা ওয়াজের ময়দানে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। সত্য মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষকে ভুল পথ দেখিয়েছে। কখনো কখনো ওসব বক্তারা বিভিন্ন ফেতনার জন্ম দেয়। যার কারণে মারামারী, হানাহানিতে লিপ্ত হয় সাধারণ মানুষ।

বড় দুঃখজনক বিগত টঙ্গীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সাউন্ড গ্রেনেড মার্কা বাজারী বক্তা একজন প্রথিতযশা আলেমকে তোহমত দিয়েছিল। একদম মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশব্যাপী এক অস্থিরতা তৈরী করেছিল। এখানেই শেষ নয়, ঐ সাউন্ডগ্রেনেডদের ইন্ধনে দেশজুড়ে এক ধরনের অরজাকতা সৃষ্টি হয়েছিল বলা যায়, বড় বড় পোস্টারে অন্যায়ভাবে বয়োবৃদ্ধ একজন আলেমকে অপমান করে পুরো বাংলাদেশ ছেয়ে ফেলা হয়েছিল।

বায়তুল মোকাররমে মিস্টার সাউন্ডগ্রেনেড হুজুর গলা উঁচিয়ে বক্তৃতা করেছিলেন। সরাসরি আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের নাম উল্লেখ করে তাঁকে অপমানমূলক জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে মাদ্রাসার নিরীহ ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন। হয়তো তার মওদুদী প্রভুদের খুশি করার জন্য। ওদের ইন্ধনে ফরীদ মাসঊদ সাহেবের সাদা টুপি-দাঁড়ি সম্বলিত ছবি রাজপথে মাড়িয়েছিল। এখানে ক্ষান্ত হয়নি তারা, আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কুশপুতুল দাহ করেছিল।

বাজারী বক্তাদের কত্ত বড় সাহস! কত্ত বড় স্পর্ধা! একজন ফেদায়ে মিল্লাতের খলীফা, একজন শায়খুল হাদীস, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে যিনি বুখারীর দরস দেন, তাঁর বিরুদ্ধে এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাল, যেটা কল্পনা করা যায় না। তাদের বিদ্যা-বুদ্ধি এতই নীচু হয়েছিল যে, তা কল্পনা করা যায় না।

টঙ্গীর ঘটনার ব্যাপারে আল্লামা মাসঊদ সাহেব কিছুই জানতেন না। যেটা সেই সময়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বাজারী বক্তাদের দাপটে কেউ আর আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কথা শোনেনি। একদম নির্দয়ভাবে আল্লামা মাসঊদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা।

আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। যারা সেদিন আল্লামা মাসঊদ সাহেবকে হেনস্তা করেছিল। খামাখা তোহমত দিয়েছিল, তারা কিন্তু নিস্তার পায়নি। জাতি দেখেছে তাদের অবস্থা। বেশীদিন নয়। মাত্র দু’বছরের মাথায় গনেশ উল্টে গিয়েছে। সাউন্ডগ্রেনেডদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। পেশাব করেছে মিস্টা সাউন্ডগ্রেনেড সাহেবের ছবির উপরে। এতে আমি বা আমরাও বিরক্ত। কখনোই একজন আলেম এমন অপমানের শিকার হোক তা কামনা করি না।

দেখুন! যেদিন আল্লামা মাসঊদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিল, সেদিন আমরা ঘৃণা করেছি এই কাজকে, ঠিক আবার যখন মিস্টার সাউন্ডগ্রেনেড সাহেবের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে, এটাও সাপোর্ট করিনি। তবে কাউকে অপমান করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাজা পেতে হয়, সেটা কিন্তু চক্ষু মেলিয়া না দেখার আর সুযোগ থাকলো না।

যাইহোক, বাজারী বক্তা যারা, সারাদেশে ওয়াজ করে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাইভেট কারের ভাড়া বাবত কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে পাবলিকের পকেট ফাঁকা করে, তাদের আস্ফালনে জাতি অবাক হচ্ছে বার বার। সবচেয়ে বড় দুঃখজনক হল, ওনারা আলেম হয়ে কিভাবে আরেক আলেমের বিরুদ্ধে তোহমত দেন! তাদের কি বুক কেঁপে ওঠে না?

নামের শুরুতে ওনাদের কত্ত লকব। কত্ত বজুর্গির সাইনবোর্ড। ইউটিউব ফেসবুকে কত্ত দরদ মাখা ওয়াজ পোস্ট করেন। কেঁদে মাঠ ভিজিয়ে ফেলেন পাবলিকে। কিন্তু তারা আবার আরেকজন আলেমকে তাহকিক ছাড়া তোহমত দেয় কিভাবে? একদম “বুহতানে আজীম” স্পষ্ট মিথ্যা তোহমত দেয় কোন কায়দায়?

আল্লামা মাসঊদ সাহেব তিনি বলেছিলেন আমার নামে নির্জলা মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু কেউ শুনতে চায়নি। বরং তাঁকে অপমান করা হয়েছে। আমরা দু-চারজন যারা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের পক্ষে কথা বলেছিলাম, তিনি মজলুম আলেম হিসেবে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা কোশেশ করেছিলাম। কিন্তু ঐ ওনাদের সংঘবদ্ধচক্রের এমন আক্রমণ চলল, তাতে অসহায়ের মত চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। এমনভাবে নাস্তানাবুদ করা হল, তা বর্ণনার ভাষা আমার নেই। তবে আস্তে আস্তে কিন্তু সত্য উম্মোচন হচ্ছে। আল্লামা মাসঊদ নির্দোষ ছিলেন, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। তাঁর নামে যে মিথ্যা তোহমত দেওয়া হয়েছে, সেটাও জাতি জানতে পারছে।

আল্লামা মাসউদ সাহেব তিনি যে হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল-অবিচল, তিনি যে সত্যবাদী, জাতির কাছে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত সাহসী কণ্ঠে মুবাহালার কথা বলেছেন, তাদের বুকে যদি সাহস থাকে, তাহলে আসুন! কথা বলুন।

কিন্তু ওনারা পারবেন মুবাহালা করতে? তাদের কি সেই সাহস আছে? মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে কোনদিন ঈমানদারী কথা বলা যায় না। বরং মিথ্যার জন্ম দিতে হয়। একটা মিথ্যাকে উপরে ওঠানোর জন্য শত শত মিথ্যা বলতে হয়।

আশ্চর্য হই, বাজারী বক্তা ভাইয়েরা ওয়াজ ফরমান কিভাবে? এই মিথ্যা জোচ্চুরিতে কিভাবে তারা কথা বলেন? তাদের ওয়াজে কি কোন ফায়দা হবে? পরিশেষে, আল্লামা মাসঊদ সাহেব যেভাবে উম্মতের ঐক্য চান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতিকে দাঁড় করাতে চান, আমারও সেই প্রত্যাশা। আল্লাহ সবাইকে সহি বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com