২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

সাড়া মেলেনি হজের টাকা উত্তোলনে

সাড়া মেলেনি হজের টাকা উত্তোলনে, সবাই চান আগামী বছর হজে যেতে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৈশ্বিক করোনার কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে পবিত্র হজ পালিত হয়েছে। হজ পালনের জন্য বাংলাদেশের যারা টাকা জমা দিয়েছিলেন তাদেরকে সরকার টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ দিলেও অধিকাংশই তা গ্রহণ করেননি। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী এই করোনার মধ্যেও হজ করার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র দেড় হাজার জন মুসল্লি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আবেদন করে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। উত্তোলনকারীদের অনেকে মারা গেছেন অথবা গুরুতর অসুস্থ। অর্থাৎ হজের সম্পূর্ণ টাকা জমা দানকারীদের ৯৮ ভাগ মুসল্লি হজের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেননি। মাত্র ২ শতাংশ হজযাত্রী টাকা তুলে নিয়েছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, যেসব হজযাত্রী টাকা উত্তোলন করেননি তারা আগামী বছর হজ পালনে অগ্রাধিকার পাবেন। আর যারা টাকা উত্তোলন করে ফেলেছেন তারা আগামী বছর হজে যেতে চাইলে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সারা বছর ধরে চলবে এই রেজিস্ট্রেশন।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য প্রাকিনবন্ধন কার্যক্রম সারা বছর চালু থাকবে। আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য নতুন পুরোনো মিলিয়ে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৩২০ জন প্রাকিনবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬০ জন।

হজ অফিস ঢাকার পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, যারা টাকা উত্তোলন করেননি, তারা হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী বছর প্রাধান্য পাবেন। যারা টাকা উত্তোলন করেননি তারা সকলেই আগামী বছর হজে যেতে চান। আর যারা টাকা তুলে ফেলেছেন তাদের নতুন করে প্রাকিনবন্ধন ও নিবন্ধন করে যেতে হবে।

চলতি বছর অর্থাত্ সদ্যসমাপ্ত পবিত্র হজ পালনের জন্য এবার বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজারসহ মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা নির্ধারিত ছিল। প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রাকিনবন্ধন করেন। তবে প্রাকিনবন্ধন করার পর দুই মাস পার না হতেই বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে করোনার কারণে হজ অনুষ্ঠিত হবে কি হবে না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রেজিস্ট্রেশনে ভাটা পড়ে। শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৪২ জন ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪৫৭ জন চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন করেন। কিন্তু সৌদি আরবে অবস্থানরত ১০ হাজারের মতো মানুষকে ৩১ জুলাই হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।

এরপর হজযাত্রীদের নিবন্ধন ফি বাবদ জমাকৃত টাকা ফেরত প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। নিবন্ধন বাতিল করে ব্যাংকে জমাকৃত টাকা ফেরত নিতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়। এজন্য ১২ জুলাইয়ের পর থেকে আবেদন গ্রহণ ও টাকা ফেরত প্রদান করা হয়। বলা হয়, টাকা তুললেই ঐ ব্যক্তির হজ নিবন্ধন বাতিল হবে। তবে এই টাকা উত্তোলনের আহ্বানে সাড়া মেলেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com