২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

সিনহা হত্যা : পুলিশের তিন সাক্ষী র‌্যাবের রিমান্ডে

সিনহা হত্যা

পুলিশের তিন সাক্ষী র‌্যাবের রিমান্ডে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :  টেকনাফে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের মামলার তিন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। কনিবার শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে র‌্যাবের একটি দল তাদের নিয়ে যায়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এলিট ফোর্সের সদস্যরা। কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে নেয়া তিন আসামি হলেন- টেকনাফ মারিশবনিয়া এলাকার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন এবং মো. আয়াছ।

গত ২৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম তিনজনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফা সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তামান্না ফারাহ চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রথম দফায় তাদের সাত দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছিল।

মেজর (অব.) সিনহা খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশের করা মামলার এই তিন সাক্ষীকে ১১ আগস্ট মারিশবুনিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

৩১ জুলাই মেজর (অব.) সিনহা নিহত হওয়ার পর সিনহা ও তার সঙ্গে থাকা সিফাতের বিরুদ্ধে মাদক ও পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় মামলা করেছিল পুলিশ। উপপরিদর্শক নন্দদুলাল রক্ষীতের করা ওই মামলায় এই তিনজনকে সাক্ষী দেখানো হয়েছিল।

জানা গেছে, ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। দুজনই এখন জামিনে মুক্ত।

ওই ঘটনায় টেকনাফ থানায় করা পুলিশের মামলায় সাক্ষী করা হয় মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস। পরে তাদের তিনজনকে সিনহার বোনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথম দফায় এই তিন সাক্ষীকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাবের তদন্তকারীরা। পরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজনকে দ্বিতীয় দফায় আবারও সাত দিনে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত ৪দিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কনিবার শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা জেলা কারাগারে যান। সোয়া ১১টার দিকে আসামি নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াসকে গাড়িতে তুলে নেন তারা। পরে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের নেওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে তাদের নেওয়া হয় র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে। বর্তমানে ওই তিনজনকে সেখানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে তৃতীয় দফায় সিনহা হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়। শনিবার থেকে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালের সঙ্গে মারিশবুনিয়ার এই তিন সাক্ষীর মুখোমুখি জেরা হবে কি না, সেটি নিশ্চিত করেনি তদন্তকারীরা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলার মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। তারা হলেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএনের তিনজন এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com