১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সিলেটে দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট ● সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।বুধবার রাত ১০টায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বলে কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ দেখা করতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন রিপনের বাবা-মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের ২৫ সদস্য। এদের মধ্যে বাবা আ. ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রয়েছেন বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।

রিপনের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগ্রামে।

এর আগে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কারা কর্তৃপক্ষ। বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় জেলরোড থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, স্বজনরা বেরিয়ে আসার পর রিপনকে তওবা পড়ান সিলেট নগরের আবু তোরাব মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি মো. বেলাল উদ্দিন। এরপর ফারুক আহমদ ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি জল্লাদ দল রিপনের ফাঁসি কার্যকর করবে।

বুধবার বিকেল পৌনে ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু সায়েম জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে রিপনের পরিবারকে তার সঙ্গে শেষ দেখা করতে বলা হয়েছে।

এর আগে কারাগারে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জানিয়েছিলেন, উচ্চমহল থেকে বুধবার ফাঁসি কার্যকরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। সকাল থেকেই সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জল্লাদদের নিয়ে ফাঁসির মহড়াও দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপতির কাছে করা রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। এরপর তা রিপনকে পড়ে শোনানো হয়। পরে দুপুরে কারাগারে এসে রিপনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার বাবা আ. ইউসুফ ও মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। বুধবার তারা আবার শেষবারের মতো সাক্ষাৎ করতে আসবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া। এ ঘটনায় আহত হন আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেনসহ অন্তত ৪০ জন।

এ মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি হান্নান, সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এ রায় আপিলেও বহাল থাকে।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর এই তিন আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের জঙ্গি স্বীকার করে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন নাকচ করে দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই শীর্ষ জঙ্গি হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদেরও আজ ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com